ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হাউথিদের হামলায় ক্রমেই চাপে পড়ছে সৌদি আরব। পশ্চিম উপকূলের একাধিক এলাকায় হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র শহর মক্কাতেও। এমন পরিস্থিতিতে সৌদির পাশে তথাকথিত ‘মুসলিম ন্যাটো’র সহযোগী দেশগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এরই মধ্যে হাউথিদের মোকাবিলায় ইজরায়েলের সাহায্য চাওয়া হয়েছে বলে দাবি সামনে এসেছে। আর সেই বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে কটাক্ষ করেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে হাউথি বাহিনী। জেদ্দা ও তইফের পাশাপাশি মক্কাতেও হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিয়াধ প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। হাউথিদের হামলার জেরে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর একাধিক ঘাঁটি খালি করার কথাও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, সৌদি সমর্থিত বাহিনীর জন্য পাঠানো মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের কিছু অংশ হাউথিদের হাতে পৌঁছেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদির মিত্র পাকিস্তান ও তুরস্কের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ‘মক্কা চুক্তি’-র প্রসঙ্গ টেনে তাদের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত দুই দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আমেরিকার সাহায্য চাওয়ার কথাও উঠে এসেছে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এরই মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি, হাউথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইজরায়েলের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এই বিষয়ে মধ্যস্থতা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন তসলিমা নাসরিন। ধর্মীয় পরিচয় ও বাস্তব রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে তিনি সৌদি আরবকে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর—বিপদের সময়ে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তসলিমার পোস্টে রূপক ব্যবহার করে বলা হয়েছে, ‘‘ড্রোন এসে বলে-আমাকে নামিয়ে বাঁচা আল্লাহর ঘর। রাজনীতিরও কী অসাধারণ ধর্মবোধ! ড্রোন মাথার ওপর না আসা পর্যন্ত শত্রু চেনা যায়। ড্রোন মাথার ওপর এলে শুধু রাডার চেনা যায়।’’
মক্কা ও মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে তসলিমা আরও ইঙ্গিত করেছেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ধর্মীয় বন্ধুত্বের পাশাপাশি বাস্তব নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যের সারকথা—বিপদের সময়ে ধর্ম নয়, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিই শেষ পর্যন্ত ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.