বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু তার আগেই পশ্চিমবঙ্গে কার্যত নির্বাচনী আবহ তৈরি করে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার মালদার সভার পর রবিবার তাঁর গন্তব্য ঐতিহাসিক সিঙ্গুর—যে সিঙ্গুর এক সময় রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, বদলে দিয়েছিল ক্ষমতার অঙ্ক। তাই মোদির এই সভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি শিল্প ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে।
২০১১ সালে সিঙ্গুর আন্দোলন ছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প ঘিরে জমি আন্দোলন, শিল্পায়নের বিরোধিতা এবং কৃষকদের স্বার্থ—এই সবকিছু মিলিয়েই ভেঙে পড়েছিল ৩৪ বছরের বাম শাসন। ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরে শিল্প হবে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে, অনুসারী শিল্প গড়ে উঠবে—এই স্বপ্ন দেখানো হলেও বাস্তবে তা আর পূরণ হয়নি। উল্টে রাজ্য ছাড়তে হয়েছিল টাটাদের।
তারপর অনেকটা সময় পেরিয়েছে। বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। যে শুভেন্দু অধিকারী, মুকুল রায় এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাঁরাই পরে বিজেপিতে যোগ দেন এবং প্রকাশ্যে সিঙ্গুর ইস্যুতে আগের অবস্থানকে ভুল বলে স্বীকার করেন। আজ সেই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটেই সিঙ্গুরে দাঁড়াতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যখন রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখ শুভেন্দু অধিকারী।
রবিবার দুপুর পৌনে ৩টে নাগাদ সিঙ্গুরে পৌঁছনোর কথা প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের সূচনা ও শিলান্যাস করবেন তিনি। এরপর দুপুর সাড়ে ৩টেয় জনসভা করার কথা রয়েছে। এই সভাকে ঘিরে বিজেপির প্রস্তুতিও চোখে পড়ার মতো। বুধবার সভাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রায় ২০০ জন কৃষকের হাতে প্রধানমন্ত্রীর সভার আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। বিজেপি সূত্রে খবর, এই কৃষকরাই আজ সভার দর্শকাসনের সামনের সারিতে থাকবেন।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, সিঙ্গুর থেকেই টাটাদের ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “বিজেপির সরকার এলে এখানে শিল্প তৈরি হবে। টাটারাও ফিরবে, আরও বড় শিল্প আসবে।” এই মন্তব্য নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে সেই এলাকায়, যেখানে এক সময় শিল্পায়নের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালেই পাঁচবার পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছেন নরেন্দ্র মোদি। বছর শেষে রাজ্যে এসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। আড়াই সপ্তাহের মধ্যেই আবার প্রধানমন্ত্রীর আগমন, সঙ্গে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প—সব মিলিয়ে বিজেপির যে বাংলা দখলের রণকৌশল, তা স্পষ্ট। সিঙ্গুর আন্দোলনের ফলেই যে এক সময় টাটা বাংলা ছেড়েছিল, সেই সিঙ্গুর থেকেই কি শিল্প পুনরুজ্জীবনের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী?
এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মনে। সিঙ্গুরের মাটি থেকে কি হবে কোনও বড় শিল্প-ঘোষণা? বাংলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের দিশা বদলাতে পারে এমন কোনও বার্তা কি দেবেন মোদি? আপাতত সেই উত্তরের দিকেই তাকিয়ে সিঙ্গুর, তাকিয়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.