গ্রীষ্মকালে বিয়ের আয়োজন মানেই একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে ত্বক ও চুলের বাড়তি যত্নের চ্যালেঞ্জ। প্রচণ্ড গরম, ঘাম, ধুলোবালি এবং সূর্যের তীব্র রশ্মি খুব সহজেই ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা নষ্ট করে দিতে পারে। তাই শুধু দামি পার্লার ট্রিটমেন্টের উপর নির্ভর না করে, বিয়ের আগে থেকেই নিয়মিত ও সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক হবু কনে শেষ মুহূর্তে ফেসিয়াল, ডি-ট্যান বা নতুন বিউটি ট্রিটমেন্ট করিয়ে ফেলেন। এতে অনেক সময় ত্বকে ব্রণ, র্যাশ বা অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। বরং প্রতিদিনের সহজ যত্নই ত্বককে ভিতর থেকে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
গরমের সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সানস্ক্রিন ব্যবহার। বাইরে অল্প সময় থাকলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই নিয়মিত এসপিএফ ৫০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। এই মৌসুমে জেল-বেসড সানস্ক্রিন বেশি আরামদায়ক, কারণ এতে ঘাম কম হয় এবং ত্বক আঠালো লাগে না।

ত্বক পরিষ্কার রাখতেও বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। দিনে অন্তত দু’বার ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে মুখের অতিরিক্ত তেল ও ধুলো দূর হয়। বিশেষ করে গরমে টি-জোনে তেল জমে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। ফেসওয়াশের পর টোনার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ত্বক সতেজ দেখায়।
ময়শ্চারাইজার বাছার ক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়া জরুরি। গ্রীষ্মে ভারী ক্রিমের বদলে জেল-বেসড ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। হাইলুরনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন বা অ্যালোভেরা যুক্ত পণ্য ত্বককে ঠান্ডা ও আর্দ্র রাখে। এতে হঠাৎ ব্রেকআউটের ঝুঁকিও কমে।
স্ক্রাব ব্যবহার করতে হবে খুবই সতর্কভাবে। সপ্তাহে এক বা দুইবারের বেশি স্ক্রাব না করাই ভালো। অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন ত্বককে শুষ্ক করে দিতে পারে, যার ফলে ব্রণ বা জ্বালাভাব বাড়তে পারে।
ত্বকের ক্লান্তি দূর করতে আইস ফেসিয়াল কার্যকর হতে পারে। কাপড়ে মোড়া বরফ দিয়ে মুখে হালকা ম্যাসাজ করলে ফোলাভাব কমে এবং ত্বক অনেক বেশি ফ্রেশ দেখায়। রোদে বেরিয়ে মুখ লাল হয়ে গেলে তাতেও আরাম মেলে।
শুধু প্রসাধনী নয়, পর্যাপ্ত ঘুমও কনের সৌন্দর্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত ঘুমের কারণে চোখের নীচে কালচে দাগ, শুষ্ক ত্বক ও ক্লান্ত ভাব দেখা দিতে পারে। তাই বিয়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততার মাঝেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
ত্বকের পাশাপাশি শরীরের যত্নও সমান জরুরি। নিয়মিত বডিওয়াশ ব্যবহার, হাঁটু ও কনুই স্ক্রাব করা এবং শরীরের খোলা অংশে সানস্ক্রিন লাগানো প্রয়োজন। চাইলে ঘরোয়া উপায়ে কফি ও চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করা যেতে পারে।
গরমে অতিরিক্ত ঘাম থেকে দুর্গন্ধ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন স্নান করা জরুরি। বিশেষ করে শরীরচর্চার পর ভালোভাবে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। ডিওডরেন্টের পাশাপাশি হালকা সুগন্ধিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
চুলের যত্নেও অবহেলা করা চলবে না। ঘন ঘন শ্যাম্পু করলে চুল রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। নিয়মিত নারকেল তেল দিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করলে চুল স্বাস্থ্যবান থাকে। রাতে তেল লাগিয়ে বিনুনি করে ঘুমালে চুল কম জট বাঁধে।
সবশেষে, উজ্জ্বল ত্বকের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে ফল, টক দই ও পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে। শরীর ভিতর থেকে সুস্থ থাকলে তবেই মেকআপেও ফুটে উঠবে স্বাভাবিক সৌন্দর্য।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.