রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত পাঁচ মন্ত্রী ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন সরকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে দ্রুত কাজ শুরু করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে দীর্ঘদিন পর অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ভোটকর্মী, নিরাপত্তারক্ষী, প্রশাসনিক আধিকারিক ও সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকার রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সকল মানুষের জন্য কাজ করবে।
প্রথম সিদ্ধান্ত হিসেবে সরকার ঘোষণা করেছে, রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াবে রাজ্য। তাঁদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটছে, তাই দ্রুত কাঁটাতার নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি দেওয়া হবে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্যকে যুক্ত করার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ‘আয়ুষ্মান ভারত’, ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ এবং ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’র মতো প্রকল্প এবার রাজ্যে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুবিধা বাড়াতেই এই উদ্যোগ।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন সরকার। এতদিন রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল বলে অভিযোগ। এবার থেকে তাঁরা চাইলে কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারবেন।

আইনব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ থেকেই রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমার ঊর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু চাকরিপ্রার্থী নতুন করে সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে চলতি সামাজিক প্রকল্পগুলি বন্ধ করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘স্বাস্থ্যসাথী’র মতো প্রকল্প চালু থাকবে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহ থেকে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক করবেন Dilip Ghosh এবং Agnimitra Paul।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.