অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তাঁর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। দুর্ঘটনাজনিত সেই ঘটনার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। তবে তাঁর নীরবতা নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ঘটনাটি যে ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন ঘটে, সেই দৃশ্যে শ্বেতাও উপস্থিত ছিলেন। এর পর থেকেই কিছু নেটমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও কটাক্ষ ছড়াতে শুরু করে। বিশেষ করে কিছু ফ্যান পেজ থেকে শেয়ার হওয়া পোস্ট আরও বিতর্ক উস্কে দেয়। এর জেরে মানসিকভাবে চাপে পড়েছেন অভিনেত্রী—এমন দাবিও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে শ্বেতার পাশে দাঁড়ালেন তাঁর বন্ধু ও সহ-অভিনেত্রী তিতিক্ষা দাস। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—একটি দুঃখজনক ঘটনার জন্য কেন একজন সহ-অভিনেত্রীকে দায়ী করা হচ্ছে? তাঁর মতে, শুধুমাত্র ‘রিচ’ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কিছু অ্যাকাউন্ট অযথা একজন মানুষের চরিত্রহনন করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিতিক্ষা আরও বলেন, বিচার চাওয়ার নামে অন্য কাউকে আঘাত করা উচিত নয়। তিনি সকলকে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। অনুমতি ছাড়া কারও ছবি বা ব্যক্তিগত কথা প্রকাশ করা যে অনৈতিক, সেটাও তিনি স্পষ্ট করেন।
অন্যদিকে, একটি ভাইরাল প্রতিবেদনে দাবি করা হয়—রাহুলের মৃত্যুর পর শ্বেতা নাকি চরম মানসিক চাপে রয়েছেন এবং ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভর করছেন। এমনকি বাইরে বেরোতেও ভয় পাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। যদিও এইসব দাবির বিরোধিতা করে শ্বেতা নিজেই জানান, তাঁর বক্তব্য বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করেন, তিনি কখনও বলেননি যে তাঁর কেরিয়ার শেষ হয়ে গেছে। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিভা ও পরিশ্রম থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এই কঠিন সময়ে সকলকে সংবেদনশীল থাকার অনুরোধও জানান তিনি।
পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্ববোধের প্রশ্ন—একটি দুর্ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে কোথাও যেন মানবিকতা হারিয়ে যাচ্ছে না তো?

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.