বারাকপুর মহকুমায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের খারাপ ফলাফলের পর দলের অন্দরের ক্ষোভ এবার প্রকাশ্যে চলে এল। পরাজয়ের দায় নিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের প্রবীণ নেতা উত্তম দাস।
বারাকপুর অঞ্চলের একাধিক কেন্দ্রে দলের পরাজয়ের পর উত্তম দাস সরাসরি রাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে এলাকার রাজনৈতিক সংগঠন মজবুত করার বদলে রাজ ব্যক্তিগত প্রচার ও সিনেমা জগতের সংযোগ নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। উত্তম দাস দাবি করেন, স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে রাজের দূরত্ব ছিল এবং দীর্ঘদিনের কর্মীদের গুরুত্ব না দেওয়ায় দলের ভিত দুর্বল হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনীতিকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজ চক্রবর্তী নাকি সিনেমা দুনিয়ার মতো করেই বিষয়গুলি দেখতেন। উত্তমের কথায়, এলাকায় নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়ার নামে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের রাজনীতি চলছিল। তাঁর দাবি, এর ফলে পুরনো সংগঠক ও কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, যার প্রভাব সরাসরি ভোটবাক্সে পড়েছে।
উত্তম দাস বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের অনেকেই উপেক্ষিত হয়েছেন। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দলে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছিল। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ভালোভাবে নেয়নি।
বারাকপুরে বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর কাছে রাজ চক্রবর্তীর পরাজয়ের পর থেকেই স্থানীয় স্তরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে। ফল ঘোষণার দিন গণনাকেন্দ্রের বাইরে রাজকে লক্ষ্য করে কটূক্তি ও বিক্ষোভের ঘটনাও সামনে আসে। যদিও সেই পরিস্থিতিতে রাজ চক্রবর্তী প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।
তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের অন্দরে যে অসন্তোষ জমে রয়েছে, উত্তম দাসের মন্তব্যে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বারাকপুরে দলের সংগঠন ও নেতৃত্ব নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.