Durga Puja: ‘থিমের নামে ডিমের প্যান্ডেল চলবে না’, আমিষ খাবার নিয়েও বার্তা ভিএইচপি-র

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবারই প্রথম দুর্গাপুজো। ইতিমধ্যেই পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন মণ্ডপে। তার মধ্যেই দুর্গাপুজো নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) দেওয়া কিছু বার্তা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে সংগঠনের তরফে মণ্ডপের থিম, প্রতিমার রূপ এবং আমিষ খাবার নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

তবে সেই বার্তা ঘিরে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের ব্যাখ্যাও দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের বক্তব্য, থিমের পুজোর বিরোধিতা করা হচ্ছে না। আপত্তি এমন কিছু বিষয় নিয়ে, যা দুর্গাপুজোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

থিমের প্যান্ডেলে আপত্তি কোথায়?
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় মার্গ দর্শক মণ্ডলীর সদস্য নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী জানিয়েছেন, থিমের পুজো নিয়ে সংগঠনের কোনও আপত্তি নেই। তবে থিমের নামে এমন কোনও মণ্ডপ তৈরি করা উচিত নয়, যা হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

তাঁর কথায়, “থিমে আপত্তি নেই। তবে থিমের নামে ডিমের প্যান্ডেল, জুতোর প্যান্ডেল চলবে না।”

ভিএইচপি-র পরামর্শ, মণ্ডপে এমন কোনও শিল্পকলা বা উপাদান রাখা উচিত নয়, যা বিকৃত বা দুর্গাপুজোর সঙ্গে সম্পর্কহীন। প্রয়োজনে মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করা যেতে পারে বলেও মত সংগঠনের।

প্রতিমায় আধুনিকতা, তবে শালীনতার উপর জোর
কলকাতার বহু পুজোয় মণ্ডপের থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমাতেও নানা ধরনের অভিনবত্ব দেখা যায়। তবে প্রতিমার ক্ষেত্রে আধুনিকতার পাশাপাশি শালীনতা বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

সংগঠনের বক্তব্য, প্রতিমা সাবেকি ধারার হতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু দেবী দুর্গার মাতৃরূপ এবং দশপ্রহরণধারিণী রূপ যেন কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়।

নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্গার হাতে থাকা অস্ত্র সরিয়ে অন্য কোনও বস্তু দেওয়া কিংবা এমন পোশাক পরানো উচিত নয়, যা দেবীর প্রচলিত রূপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর মতে, আধুনিকতার ছোঁয়া থাকতেই পারে, কিন্তু দেবীর মূল ভাবমূর্তি বজায় রাখা প্রয়োজন।

পুজোয় কি আমিষ খাবার বন্ধ?
দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে ভিএইচপি-র বার্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে সংগঠনের বক্তব্য, গোটা পুজোয় আমিষ খাবার নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি।

ভিএইচপি জানিয়েছে, মণ্ডপের বাইরে খাবারের স্টলে আমিষ খাবার বিক্রি বা খাওয়া যেতে পারে। তবে পুজোমণ্ডপের ভিতরে পবিত্রতা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপের আশপাশে যাতে এঁটোকাটা বা খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে না থাকে, সে বিষয়েও পুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে বলে খবর।

অর্থাৎ, ভিএইচপি-র বার্তার মূল লক্ষ্য মণ্ডপের পবিত্রতা বজায় রাখা—সর্বত্র আমিষ খাবার বন্ধ করা নয়।

অষ্টমী-নবমী নিয়ে কী বলল সংগঠন?
বৈঠকে দুর্গাপুজোর অষ্টমী ও নবমী নিয়েও নিজেদের মত জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের তরফে এই দুই দিনকে শুধুমাত্র অষ্টমী বা নবমী না বলে ‘মহাষ্টমী’ ও ‘মহানবমী’ বলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, এই দুই দিনে মহাপুজো সম্পন্ন হয় বলে দাবি সংগঠনের।

পাশাপাশি বলিদানের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ভিএইচপি-র বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও পুজো কমিটি চাইলে ছাগ বলি কিংবা ফল বলির আয়োজন করতে পারে।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ধর্মীয় ভাবাবেগ ও পবিত্রতা বজায় রাখার উপরই জোর দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তবে সংগঠনের বক্তব্যে স্পষ্ট, কলকাতার জনপ্রিয় থিমের পুজো পুরোপুরি বন্ধ করার কোনও দাবি তারা করেনি। বরং থিম ও আধুনিকতার সঙ্গে ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং দেবী দুর্গার প্রচলিত রূপের সামঞ্জস্য রাখার পরামর্শই দেওয়া হয়েছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক