ভারত দ্রুত ডিজিটাল যুগের দিকে এগোলেও এক বড় বাধা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে—স্মার্টফোনের দাম। দেশে এখনও প্রায় ২২ কোটি মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন, এবং তাঁদের বড় অংশই স্মার্টফোনে আপগ্রেড করতে আগ্রহী। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আর্থিক সীমাবদ্ধতা সেই ইচ্ছেকে আটকে দিচ্ছে।
ফিচার ফোন বনাম স্মার্টফোন: ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে
বর্তমানে একটি সাধারণ ফিচার ফোন ও এন্ট্রি-লেভেলের স্মার্টফোনের মধ্যে দামের পার্থক্য প্রায় ৪,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা। ভবিষ্যতে মেমোরি চিপের দাম বাড়ার কারণে এই ব্যবধান ৮,০০০ টাকায় পৌঁছতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একদিকে যেখানে কয়েকশো টাকায় ফিচার ফোন পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে একটি সাধারণ স্মার্টফোন কিনতে গেলে কয়েক হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে—যা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।
আয়ের তুলনায় স্মার্টফোন অনেকটাই ব্যয়বহুল
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে একটি স্মার্টফোনের দাম একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর মাসিক আয়ের ৩০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, এই খরচ ৫ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত। ফলে স্পষ্ট, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে স্মার্টফোন।
নীতিতে জোর উৎপাদনে, সাশ্রয়ী দামে নয়
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও, বর্তমান নীতির ফোকাস মূলত উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানির উপর। সাশ্রয়ী স্মার্টফোন তৈরির দিকে ততটা জোর দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বাজারে কম দামে ভালো স্মার্টফোনের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
সস্তা স্মার্টফোনের অপশন কমছে
৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে স্মার্টফোনের বিকল্প আগের তুলনায় কমে এসেছে। বর্তমানে এই সেগমেন্টে থাকা ফোনের বড় অংশই ৫জি প্রযুক্তির, যা দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে—
৫,০০০ টাকার নিচে স্মার্টফোন বাজারের মাত্র ৪%
৫,০০০–১০,০০০ টাকার মধ্যে প্রায় ২৪%
এর মধ্যে প্রায় ৭১% ফোনই ৫জি
বাস্তব উদাহরণে স্পষ্ট বৈষম্য
বর্তমান বাজারদরে দেখা যাচ্ছে—
সবচেয়ে সস্তা ৪জি স্মার্টফোনের দাম প্রায় ৫,৮০০ টাকা
সবচেয়ে সস্তা ৫জি স্মার্টফোন প্রায় ৯,০০০ টাকার কাছাকাছি
অন্যদিকে ২জি ফিচার ফোন ৬৫০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়
অর্থাৎ, একটি সাধারণ ফিচার ফোনের তুলনায় স্মার্টফোন কিনতে প্রায় ৬–৭ গুণ বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
ডিজিটাল ডিভাইড আরও বাড়ার আশঙ্কা
এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের ডিজিটাল ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। যাঁরা স্মার্টফোন কিনতে পারছেন না, তাঁরা অনলাইন পরিষেবা, শিক্ষা, ব্যাংকিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের জন্য নীতিগত উদ্যোগ না নিলে ডিজিটাল বৈষম্য আরও গভীর হতে পারে।
উপসংহার
ভারতের ডিজিটাল স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য শুধু নেটওয়ার্ক নয়, প্রয়োজন সাশ্রয়ী ডিভাইসও। যতদিন না স্মার্টফোন সাধারণ মানুষের নাগালে আসছে, ততদিন এই ডিজিটাল অগ্রগতি অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.