‘শুধু শোক নয়, চাই বিচার’, —বাবিনের জন্য রাস্তায় নামলেন পরিবার ও প্রতিবেশীরা, ন্যায় না পেলে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-কে স্মরণ করে আবেগঘন পদযাত্রায় সামিল হলেন তাঁর পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং প্রতিবেশীরা। রবিবার বিজয়গড়ের গান্ধীগেট থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রা যাদবপুর টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, গল্ফগ্রিন এবং অভিনেতার প্রিয় গল্ফ ক্লাব মাঠ ঘুরে আবার তাঁর বাড়িতে ফিরে শেষ হয়। পথ চলার মাঝে ‘নিরঞ্জন সদন’-এ এক মিনিট নীরবতা পালন করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

Rahul Arunoday Banerjee

এই পদযাত্রায় অংশ নেন রাহুলের দাদা অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত, অভিনেতা সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ, যাঁরা রাহুলকে ‘বাবিন’ নামেই চিনতেন।

রাহুলের নাট্যদল ‘বিজয়গড় আত্মপ্রকাশ’-এর সদস্য উপদেশ সাহা তাঁকে স্মরণ করে বলেন, বাবিন ছিলেন দলের ‘চলমান এনসাইক্লোপিডিয়া’। তাঁর অসাধারণ জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি সকলকে মুগ্ধ করত। একই দলের সদস্য সমীর মুখোপাধ্যায় জানান, স্কুলজীবনেই রাহুলের প্রতিভার ঝলক দেখা গিয়েছিল। ক্লাস নাইনে থাকাকালীন তিনি নারায়ণ সান্যাল-এর গল্প ‘বিশ্বাসঘাত’-এর নাট্যরূপ দেন, যা দেখে লেখক নিজেই প্রশংসা করেছিলেন।

20260410 082241

নাট্যদলের আর এক সদস্য তন্ময় গুহ রায় বলেন, খুব অল্প রিহার্সালেই বাবিন এমন অভিনয় করতেন, যা অন্যদের জন্য ছিল বিস্ময়কর। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় ক্ষমতা তাঁকে আলাদা জায়গায় পৌঁছে দিয়েছিল।

প্রয়াত অভিনেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সুরকার-গায়ক অনির্বাণ রায় স্মৃতিচারণ করে বলেন, নাটকের সঙ্গীত ও আবহ নির্মাণে রাহুলের চিন্তাভাবনা ছিল অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত ও গভীর। অন্যদিকে প্রতিবেশী রীতা চন্দ জানান, জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরেও রাহুল কখনও নিজের শিকড় ভুলে যাননি। পাড়ার পুজোয় তিনি একেবারে ঘরের ছেলের মতোই মিশে থাকতেন।

সহ-অভিনেতা ও বন্ধু চিরঞ্জীব গোস্বামী বলেন, মঞ্চে রাহুল ছিলেন অত্যন্ত সাবলীল। খুব বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ত না, স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়েই দর্শকদের মন জিতে নিতেন।

এই পদযাত্রা শুধু স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ ছিল না। নাট্যকর্মী কাজল চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানান, তাঁরা কেবল শোক প্রকাশ করতে চান না—ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাঁর কথায়, “অশ্রু নয়, ন্যায় না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।”

এ দিন রাহুলকে স্মরণ করেন অভিনেতা গৌরব চক্রবর্তী এবং অভিনেত্রী ঋদ্ধিমা ঘোষ-ও। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে একজন শিল্পী, বন্ধু এবং মানুষ হিসেবে রাহুলের অনন্য ব্যক্তিত্ব।

সব মিলিয়ে, এই পদযাত্রা হয়ে উঠল একদিকে শোকের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে ন্যায়বিচারের জোরালো দাবি—যেখানে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটলেন পরিবার, সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক