ভারতীয় সঙ্গীতজগতের কিংবদন্তি শিল্পী Asha Bhosle-র জীবন শুধু গানেই ভরপুর ছিল না, ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্মৃতিও ছিল সমান উজ্জ্বল। বিশেষ করে কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর আবেগে জড়ানো। তিনি নিজেই বহুবার বলেছেন, মহারাষ্ট্র তাঁর জন্মভূমি হলেও, পশ্চিমবঙ্গ তাঁর কর্মভূমি—আর কলকাতা তাঁর শ্বশুরবাড়ি।
এই আবেগের সূত্র ধরেই উঠে আসে তাঁর বিয়ের পর প্রথম কলকাতা সফরের এক আন্তরিক গল্প। Rahul Dev Burman-কে বিয়ে করার পর খুব বড় আয়োজন করে বিয়ে হয়নি তাঁদের। মন্দিরে সাদামাটা অনুষ্ঠানেই সম্পন্ন হয়েছিল সেই বিবাহ। ফলে শ্বশুরবাড়িতে নতুন বৌমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করার সুযোগ হয়নি পরিবারের।
কিন্তু বাঙালি রীতিনীতি তো থেমে থাকে না! খবর পাওয়া যায়, নতুন বৌ আসছেন কলকাতায়। আর সেই খবর পেয়েই রাহুলের ‘মণিদিদা’ ছুটে যান Gariahat-এ। সেখান থেকে তিনি কিনে আনেন একটি রুপোর সিঁদুর কৌটো। আশা কলকাতার বাড়িতে পৌঁছানোর পর সেই কৌটো থেকেই সিঁদুর তুলে তাঁর সিঁথিতে পরিয়ে দেন—একেবারে বাঙালি ঘরের নিয়ম মেনে বৌমা বরণ।

এই স্মৃতিচারণ করেছেন পরিবারের সদস্য Abhijit Dasgupta। তিনি জানান, বয়সে অনেক বড় হলেও সম্পর্কের দিক থেকে আশা ছিলেন তাঁর ‘মামাশ্বশুরবৌ’। প্রথম দিন বাড়িতে আসার স্মৃতি এখনও তাঁর স্পষ্ট মনে আছে।
পরিবারের আরেক সদস্য শর্বরী দাশগুপ্ত জানান, নতুন বৌমাকে স্বাগত জানাতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। মেনু ঠিক করেছিলেন স্বয়ং রাহুল দেববর্মণ—পাবদা মাছ আর মোচার ঘণ্ট। সেই মতো আয়োজন করে নতুন বৌমাকে আপ্যায়ন করা হয়।
কলকাতার সেই বাড়িতে কয়েক দিন কাটানোর সময় আশার সঙ্গে পরিবারের সবার ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। গল্প, আড্ডা—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক আন্তরিক সম্পর্ক। বাড়ির দেওয়ালে সাজানো পূর্বপুরুষদের ছবি দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, এমন পরিবার পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের বিষয়।
এরপর থেকে কলকাতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। নিয়মিত আসা-যাওয়া চলতে থাকে। শুধু তাই নয়, মুম্বইয়ে তাঁর নিজের বাড়িতেও আমন্ত্রণ জানাতেন এই পরিবারকে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কলকাতাতেই তিনি নজরুলগীতির একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং সেই অ্যালবাম প্রকাশের দায়িত্ব দেন পরিবারের ‘মণিদাদু’-কে। মধ্য কলকাতার একটি হোটেলে তাঁর হাতেই সেই অ্যালবামের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয়—যা প্রমাণ করে, এই সম্পর্ক কতটা আন্তরিক ছিল।
রাহুল দেববর্মণের মৃত্যুর পরেও সেই টান কমেনি। কলকাতায় এলেই তিনি সময় বের করে এই বাড়িতে যেতেন। যদিও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর যাতায়াত কিছুটা কমে যায়, কিন্তু সম্পর্কের উষ্ণতা কখনও কমেনি।
এই সব ছোট ছোট স্মৃতিই তুলে ধরে, কেন Asha Bhosle শুধু একজন শিল্পী নন—তিনি বাঙালির পরিবারেরই এক আপন মানুষ হয়ে উঠেছিলেন।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.