ভারতীয় সঙ্গীতজগতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে কিংবদন্তি গায়িকা Asha Bhosle-এর প্রয়াণে। তাঁর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। রাজনৈতিক মহল থেকে বিনোদন জগৎ—সকলেই শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়েছেন এই মহান শিল্পীর প্রতি। তবে এই শোকবার্তাকেই ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অস্বস্তিকর বিতর্ক, যার কেন্দ্রে রয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী Sonia Gandhi।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান সোনিয়া গান্ধী। সেই বার্তায় তিনি আশার দুই পুত্র—আনন্দ ও হেমন্তের উদ্দেশ্যে শোকপ্রকাশ করেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, তাঁদের মায়ের প্রয়াণ ভারতীয় সঙ্গীতের এক সোনালি যুগের অবসান ঘটাল এবং আশাজির অবদান কোটি মানুষের জীবনে আনন্দ এনে দিয়েছে।

কিন্তু সমস্যার সূত্রপাত এখানেই। আশার দুই পুত্রের একজন, হেমন্ত ভোঁসলে, বহু আগেই—২০১৫ সালে—প্রয়াত হয়েছেন। ফলে তাঁর নাম উল্লেখ করে শোকবার্তা পাঠানোয় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কীভাবে এমন একটি গুরুতর ভুল ঘটল, তা নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা Amit Malviya সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি শোকবার্তা পাঠানোর আগে ন্যূনতম তথ্য যাচাই করা উচিত ছিল। একই সুরে নেটিজেনদের একাংশও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এমন ভুল শুধুমাত্র অসাবধানতাই নয়, বরং সংবেদনশীলতার অভাবও প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আশা ভোঁসলেকে। চিকিৎসকদের তরফে জানানো হয়, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। দেশজুড়ে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়, এমনকি প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-ও তাঁর সুস্থতা কামনা করেছিলেন। তবে সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে ১২ এপ্রিল তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরদিন মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং অসংখ্য অনুরাগী। চোখে জল নিয়ে তাঁরা বিদায় জানান ভারতীয় সঙ্গীতের এই মহীরুহকে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উঠে এসেছে জনসমক্ষে বক্তব্য বা বার্তা দেওয়ার আগে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব। বিশেষ করে যখন তা কোনও প্রয়াত ব্যক্তিত্বকে ঘিরে সংবেদনশীল প্রসঙ্গ, তখন দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি বলেই মনে করছেন অনেকেই।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.