দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী Hansika Motwani সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেন। স্বামী Sohail Kathuria-র সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদের খবর কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, তবে এতদিন এ বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। অবশেষে ডিভোর্সের প্রায় এক মাস পর এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী।
একটি সাক্ষাৎকারে হংসিকা জানান, তিনি এই বিচ্ছেদ নিয়ে কোনও অনুশোচনায় ভুগছেন না। তার কথায়, জীবনের কোনও সিদ্ধান্ত ভুল মনে হলে তা থেকে বেরিয়ে আসাই শ্রেয়। তিনি এই অভিজ্ঞতাকে তুলনা করেছেন ভুল ট্রেনে উঠে পড়ার সঙ্গে—যেখানে গন্তব্য ঠিক না হলে মাঝপথেই নেমে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এই মন্তব্যে স্পষ্ট, অতীত নিয়ে না ভেবে তিনি এগিয়ে যেতে চাইছেন।
বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি হংসিকা। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙনের পেছনের কারণ প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজনীয় নয়। তার মতে, কিছু বিষয় ব্যক্তিগত থাকাই শ্রেয় এবং তা দু’জন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
এই কঠিন সময়ে অভিনেত্রীর পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে তার পরিবার। বিশেষ করে তার মা এবং ভাই তাকে মানসিকভাবে অনেকটা সামলে তুলেছেন। হংসিকা নিজেও স্বীকার করেছেন, জীবনের এই কঠিন পর্বে পরিবারের সমর্থনই তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করেছে। ডিভোর্সের পর নিজেকে সময় দিতে তিনি পরিবারের সঙ্গে জাপান সফরেও গিয়েছিলেন, যা তার মানসিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে রাজস্থানের জয়পুরে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হংসিকা ও সোহেলের বিয়ে হয়েছিল। সেই বিয়ের নানা মুহূর্ত নিয়ে তৈরি হয়েছিল একটি ডকুমেন্টারি শো, Hansika’s Love Shaadi Drama, যা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম Disney+ Hotstar-এ মুক্তি পায় এবং দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল।
পেশাগত ক্ষেত্রে হংসিকা এখনও সক্রিয়। ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত Guardian ছবিতে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। এছাড়াও তিনি তেলেগু টেলিভিশনের জনপ্রিয় ডান্স রিয়্যালিটি শো Celebrity Special 2-এ অংশগ্রহণ করেছিলেন। সামনে তাকে দেখা যাবে নতুন তেলেগু ছবি Nasha-তে।
সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত জীবনের ঝড় সামলে আবারও নিজের মতো করে নতুন করে পথ চলা শুরু করেছেন হংসিকা। অতীতের বোঝা না টেনে, আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই যেন দিলেন এই অভিনেত্রী।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.


