বাংলার পারিবারিক উৎসবগুলির মধ্যে জামাইষষ্ঠী এক বিশেষ আবেগের নাম। শাশুড়ি ও জামাইয়ের আন্তরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তুলতে বহু বছর ধরে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, জামাইয়ের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘ জীবন ও সংসারের মঙ্গল কামনাতেই এই ব্রতের প্রচলন।
এ বছর তিথির কারণে জামাইষষ্ঠী পালিত হচ্ছে আষাঢ় মাসের শুরুতে। এই উপলক্ষে বিবাহিত কন্যা ও জামাইকে শ্বশুরবাড়িতে নিমন্ত্রণ করার রীতি রয়েছে। সকাল থেকেই চলে নানা আচার-অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি এবং বিশেষ ভোজের আয়োজন।
ব্রতের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ

জামাইষষ্ঠীর ব্রত পালনে কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে নতুন পোশাক, বিভিন্ন ফল, পান-সুপারি, ধান, ১০৮টি দূর্বা, বাঁশের করুল, করমচা এবং তালের পাখা। এই উপাচার দিয়েই জামাইয়ের মঙ্গলকামনার আচার সম্পন্ন করা হয়।
কীভাবে পালন করা হয়?
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ষষ্ঠীর সকালে অনেক শাশুড়ি উপবাস পালন করেন। জামাইয়ের হাতে হলুদ মাখানো সুতো বেঁধে দেওয়া হয় এবং কপালে তেল-হলুদের ফোঁটা দেওয়া হয়। এরপর তালের পাখা দিয়ে বাতাস করতে করতে তিনবার ‘ষাট-ষাট-ষাট’ উচ্চারণের রেওয়াজ রয়েছে। ধান ও দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করার পাশাপাশি পাঁচ রকম গোটা ফলও নিবেদন করা হয়।
ভোজের ঐতিহ্য
জামাইষষ্ঠীর অন্যতম আকর্ষণ বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ। মৌসুমি ফল, মিষ্টি এবং নানা ধরনের বাঙালি রান্নায় সাজানো হয় পাতা। অনেক পরিবার এখনও নিজের হাতে রান্না করে জামাইকে আপ্যায়ন করতে ভালোবাসেন, যদিও বর্তমানে অনেকেই রেস্তরাঁয় বসেও এই দিনটি উদযাপন করেন।
উৎসবের পেছনের লোকবিশ্বাস
জামাইষষ্ঠীকে ঘিরে একাধিক লোককথা প্রচলিত রয়েছে। একসময় বিশ্বাস ছিল, কন্যার সন্তান না হওয়া পর্যন্ত বাবা-মা মেয়ের বাড়ি যেতেন না। সেই সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকেই বিশেষ দিনে জামাইকে নিমন্ত্রণের রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আবার মা ষষ্ঠীর আরাধনা করলে সন্তানের সুখ ও পারিবারিক সমৃদ্ধি আসে— এমন বিশ্বাসও এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
সময়ের সঙ্গে উদযাপনের ধরন বদলালেও পারিবারিক ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং প্রজন্মের বন্ধনকে উদযাপন করার অন্যতম উপলক্ষ হিসেবেই আজও জামাইষষ্ঠী বাঙালির ঘরে ঘরে সমান জনপ্রিয়।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.