সারাদিন স্ক্রিনে চোখ? ডার্ক সার্কেল ও চোখের ফোলাভাব কমাতে কার্যকর ৫ ঘরোয়া অভ্যাস

বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাবের স্ক্রিন ছাড়া দিন কাটানো প্রায় অসম্ভব। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে বিনোদন—সবকিছুর জন্যই দীর্ঘ সময় চোখ রাখতে হচ্ছে উজ্জ্বল স্ক্রিনে। এর প্রভাব শুধু চোখের ক্লান্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, অনেকের ক্ষেত্রে চোখের নিচে কালচে দাগ বা ডার্ক সার্কেল এবং ফোলাভাবও দেখা দেয়। এতে মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং সবসময় ক্লান্ত দেখায়।
ডার্ক সার্কেল সবসময় কোনও গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ নয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, পানিশূন্যতা, অনিয়মিত জীবনযাপন কিংবা ধূমপানের মতো অভ্যাসও এর জন্য দায়ী হতে পারে। জীবনযাত্রায় কয়েকটি সহজ পরিবর্তন আনলে চোখের নিচের কালি ও ফোলাভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ঠান্ডা সেঁক ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে

সারাদিন স্ক্রিনে চোখ? ডার্ক সার্কেল ও চোখের ফোলাভাব কমাতে কার্যকর ৫ ঘরোয়া অভ্যাস
সারাদিন স্ক্রিনে চোখ? ডার্ক সার্কেল ও চোখের ফোলাভাব কমাতে কার্যকর ৫ ঘরোয়া অভ্যাস

চোখের নিচে ফোলাভাব দেখা দিলে একটি পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে বা কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ৫ থেকে ১০ মিনিট চোখের ওপর আলতোভাবে ধরে রাখতে পারেন। ঠান্ডা সেঁক রক্তনালিকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে, ফলে ফোলাভাব কিছুটা কমতে পারে এবং চোখ আরাম পায়।

নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি
প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। শুধু ঘুমের সময় নয়, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের পাশাপাশি ত্বককেও পুনরুজ্জীবিত হতে সাহায্য করে। এতে চোখের নিচের ক্লান্ত ভাব ধীরে ধীরে কমতে পারে।

অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুন
খাবারে বেশি লবণ থাকলে শরীরে জল জমে থাকার প্রবণতা বাড়ে। এর প্রভাব চোখের নিচেও পড়তে পারে। তাই রাতের খাবারে অতিরিক্ত নোনতা খাবার, আচার, চিপস বা ভাজাভুজি কম খাওয়াই ভালো। রান্না করা খাবারের ওপর আলাদা করে কাঁচা লবণ ছড়ানোর অভ্যাস থাকলে সেটিও কমানোর চেষ্টা করুন।

ধূমপান ত্বকের ক্ষতি বাড়ায়
ধূমপান কোলাজেনের ক্ষয় ত্বরান্বিত করে। ফলে ত্বক পাতলা হয়ে যায় এবং চোখের নিচের রক্তনালিগুলি আরও স্পষ্টভাবে দেখা যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধূমপান করলে শুধু ত্বক নয়, শরীরের অন্যান্য অঙ্গেরও ক্ষতি হতে পারে। তাই ডার্ক সার্কেল কমাতে ধূমপান ছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

শরীরকে হাইড্রেটেড রাখুন
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে শরীর ও ত্বক আর্দ্র থাকে। পাশাপাশি তরমুজ, শসা, কমলা বা অন্যান্য রসাল ফল খাদ্যতালিকায় রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়
ঠান্ডা শসার পাতলা টুকরো ১০ থেকে ১৫ মিনিট চোখের ওপর রাখলে শীতল অনুভূতি পাওয়া যায় এবং ফোলাভাব কিছুটা কমতে পারে।
ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা টি-ব্যাগ কয়েক মিনিট চোখের ওপর রাখলেও অনেকের ক্ষেত্রে আরাম মিলতে পারে। চায়ের ক্যাফেইন রক্তনালির সংকোচনে সহায়ক হতে পারে।
দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে সানগ্লাস ব্যবহার করুন এবং চোখের চারপাশের ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন লাগান।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন?
যদি হঠাৎ করে শুধু একটি চোখের নিচে ফোলাভাব দেখা দেয়, তীব্র ব্যথা, লালচে ভাব, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা তৈরি হয় বা দীর্ঘদিনেও ফোলাভাব না কমে, তাহলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটি অন্য শারীরিক সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।
চোখের নিচের কালি দূর করার কোনও জাদুকরী সমাধান নেই। তবে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জলপান, ধূমপান পরিহার এবং স্ক্রিন ব্যবহারে সংযম—এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত মেনে চললে ধীরে ধীরে চোখের নিচের ত্বক সুস্থ ও সতেজ দেখাতে পারে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক