১৮ বছরের দীর্ঘ ‘নির্বাসন’ কাটিয়ে কলকাতায় তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)-এর প্রত্যাবর্তন ঘিরে শনিবার রবীন্দ্র সদনে ছিল উৎসবের আবহ। ‘লজ্জা’-র লেখিকাকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে অনুষ্ঠানের মাঝেই কবি জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আহ্বান করাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় সাময়িক উত্তেজনা। দর্শকদের একাংশের প্রতিবাদ ও ‘চটিচাটা’ স্লোগানে পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
ঠিক কী ঘটেছিল রবীন্দ্র সদনে?
অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বক্তব্য রাখার জন্য মঞ্চে ওঠেন তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। বক্তব্যের এক পর্যায়ে দর্শকাসনে বসে থাকা কবি জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
তসলিমার আহ্বানে জয় গোস্বামী নিজের আসন থেকে উঠে মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। কিন্তু সেই সময় দর্শকাসনের একাংশ থেকে শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ ও হইচই। জয় গোস্বামীকে লক্ষ্য করে ‘চটিচাটা’ স্লোগানও দিতে শোনা যায়।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মঞ্চে না উঠে নিজের আসনে ফিরে যান প্রবীণ কবি। এর ফলে অনুষ্ঠানে সাময়িক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
কেন জয় গোস্বামীকে ঘিরে ক্ষোভ?
তসলিমা নাসরিনের দীর্ঘ নির্বাসনের সময় জয় গোস্বামীর ভূমিকা এবং তাঁর ‘নীরবতা’ নিয়ে অতীতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এই কারণেই অনুষ্ঠানে জয় গোস্বামীর উপস্থিতি এবং বিশেষ করে তসলিমার পাশে তাঁকে মঞ্চে দেখতে দর্শকদের একাংশ আপত্তি জানান বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও অতীতে তসলিমা নাসরিনের নির্বাসন নিয়ে নিজের অবস্থান সম্পর্কে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন জয় গোস্বামী। এমনকি তাঁকে নিয়ে কবিতা লেখার পাশাপাশি তসলিমাকে নিজের লেখা উৎসর্গও করেছেন তিনি।
ঘটনায় কী বললেন তসলিমা?
অনুষ্ঠানের এই অনভিপ্রেত ঘটনায় ব্যথিত তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। ঘটনাটি নিয়ে তিনি জানান, এমন পরিস্থিতি তিনি আশা করেননি।
তসলিমার কথায়, তিনি বাক্স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। জয় গোস্বামীর রাজনৈতিক ভাবনা তাঁর থেকে আলাদা হলেও তিনি বাংলা ভাষার একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। তসলিমা আরও জানান, জয় গোস্বামী তাঁকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছেন এবং সেটি তাঁকে পড়ে শোনাতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি তাঁকে একটি বইও উৎসর্গ করেছেন।
লেখিকার বক্তব্য অনুযায়ী, জয় গোস্বামী তাঁর মতাদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত না হলেও তাঁকে সমর্থন করেছেন। তাই রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠানে তাঁকে ঘিরে এমন প্রতিবাদ তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত এবং বেদনাদায়ক।
১৮ বছর পর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় এই প্রত্যাবর্তনের অনুষ্ঠান তাই শেষ পর্যন্ত আনন্দের পাশাপাশি একটি অনভিপ্রেত বিতর্কেরও সাক্ষী হয়ে রইল।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.