বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা ওম পুরী তাঁর অসাধারণ অভিনয়ের জন্য আজও দর্শকের মনে অম্লান। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কও কম ছিল না। সম্প্রতি অভিনেতা অন্নু কাপুর এক সাক্ষাৎকারে তাঁর বোন সীমা কাপুর এবং ওম পুরীর সম্পর্ক নিয়ে কিছু ব্যক্তিগত ও বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা সামনে এনেছেন।
অন্নুর কথায়, ওম পুরী একজন দুর্দান্ত শিল্পী হলেও স্বামী হিসেবে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তিনি স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন, তাঁর বোনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীন ওম পুরী বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের দাম্পত্য ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নয়ের দশকের শুরুতে সীমা কাপুর ও ওম পুরীর বিয়ে হয়। দীর্ঘদিনের পরিচয়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক প্রথমে স্থিতিশীল মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভেঙে পড়ে। বিয়ের কিছুদিন পরই সীমা জানতে পারেন, ওম পুরী অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এই ঘটনার জেরে তাঁদের সম্পর্কে চরম অশান্তি তৈরি হয় এবং কয়েক মাসের মধ্যেই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় ছিল, সেই সময় সীমা কাপুর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। কিন্তু দাম্পত্য অশান্তি ও মানসিক চাপের মধ্যেই গর্ভস্থ শিশুটির মৃত্যু হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অন্নু কাপুর জানান, পরবর্তী সময়ে ওম পুরীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে সীমা আবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই সময়ও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবুও অন্নুর কথায়, তাঁর মনে কোনও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। তিনি ওম পুরীর পরিবারের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন, যদিও বোনের কষ্টের কথা মনে পড়ে তাঁর আক্ষেপ হয়।
পরবর্তীকালে ওম পুরী সাংবাদিক নন্দিতাকে বিয়ে করেন, কিন্তু সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং ২০১৩ সালে তা ভেঙে যায়। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে ওম পুরী নাকি সীমার কাছে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিলেন।
২০১৭ সালে ওম পুরীর মৃত্যু হলেও, তাঁর জীবনের এই অধ্যায় এখনও আলোচনায় উঠে আসে। অন্নু কাপুরের এই মন্তব্য আবারও মনে করিয়ে দিল, একজন শিল্পীর সাফল্যের আড়ালেও ব্যক্তিগত জীবনে কত জটিলতা লুকিয়ে থাকতে পারে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.