এসআইআর (স্টেটওয়াইড ইনহ্যাবিট্যান্ট রেজিস্ট্রেশন) প্রক্রিয়া জোরকদমে চলাকালীন সিএএ আবেদনকারীদের জন্য বড় নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দাখিল করা মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টকে কেন্দ্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) অনুযায়ী যারা আবেদন করেছেন, তাঁদের ফাইল ১০ দিনের মধ্যেই বিবেচনা করতে প্রস্তুত কেন্দ্র।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এনজিও-র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বহু আবেদনকারী মাসখানেক আগে আবেদন করলেও কেউই কোনও উত্তর পাননি, ফলে এসআইআর শুরুর পর তাঁদের অবস্থা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের তরফে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব হাইকোর্টকে জানান, যাঁরা দেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে এসে সিএএ-র আওতায় আবেদন করেছেন এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাঁদের ফাইল ১০ দিনের মধ্যেই খতিয়ে দেখা হবে। তবে কেন্দ্র পরিষ্কার জানিয়ে দেয়—এই সিদ্ধান্ত কেবল এই মামলার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, দেশের অন্যান্য জায়গায় একই ধরনের মামলা বিচারাধীন থাকায় সেখানে এই সুবিধা এখনই প্রযোজ্য নয়।
রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়, এই পুরো বিষয়টিতে রাজ্যের কোনও ভূমিকা নেই; কমিশনই সমস্ত দিক পরিচালনা করছে। তবে কেন্দ্র দাবি করে, আইন অনুযায়ী রাজ্যকে ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন পাঠানোর কথা থাকলেও সেই নিয়ম মানা হয়নি। এএসজি অশোক চক্রবর্তী জানান, “রাজ্য আমাদের কাছে কিছু পাঠায়নি।”
অন্যদিকে মামলাকারীর আইনজীবী মৈনাক বসুর বক্তব্য, জনস্বার্থ মামলায় দেশজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার সিএএ আবেদন পড়ে আছে, যেগুলির ভবিষ্যৎ এখনও অন্ধকারে। তিনি আদালতকে জানান, “কেন্দ্র অন্তত সিদ্ধান্ত নিক—অনুমতি দেবে না বাতিল করবে। কিন্তু অপেক্ষা আর নয়।” তাঁর দাবি, এসআইআর-এর ফর্মে এই আবেদনকারীদের জন্য কোনও আলাদা অপশনই রাখা হয়নি।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—
✅ সিএএ নাগরিকত্ব পাওয়া গেলে আবেদনকারীরা কি নতুন ফর্ম পাবেন?
✅ নাকি বর্তমান এসআইআর ফর্মের সঙ্গে আলাদা নথি সংযুক্ত করলেই হবে?
সব নজর এখন নির্বাচন কমিশনের দিকে, কারণ সিএএ নাগরিকদের জন্য এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিশেষ বিধান তৈরি হবে কি না—সেই সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ পথ।
FAQ
১) সিএএ আবেদন ১০ দিনের মধ্যে বিবেচনা করার আশ্বাস কারা দিয়েছে?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব আদালতে এই আশ্বাস দিয়েছেন।
২) এই সুবিধা কি সবার জন্য প্রযোজ্য?
না, কেবল এই মামলায় যুক্ত আবেদনকারীদের জন্য।
৩) পশ্চিমবঙ্গে কতজন সিএএ অনুযায়ী আবেদন করেছেন?
সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি, তবে দেশজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন রয়েছে।
৪) আবেদনকারীরা কেন সমস্যায় পড়ছেন?
মাসখানেক অপেক্ষার পরও কেউ উত্তর না পাওয়ায় এসআইআর শুরুর সঙ্গে তাঁদের অবস্থা অনিশ্চিত হয়ে গেছে।
৫) এসআইআর ফর্মে কি সিএএ নাগরিকদের জন্য আলাদা অপশন আছে?
না, এমন কোনও অপশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
৬) রাজ্যের ভূমিকা কী?
রাজ্যের দাবি, কমিশন এই পুরো কাজ পরিচালনা করছে; রাজ্যের সরাসরি ভূমিকা নেই।
৭) কেন্দ্র রাজ্যের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তুলেছে?
রাজ্য ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন পাঠায়নি বলে কেন্দ্র দাবি করেছে।
৮) আদালতে মামলাকারীর প্রধান বক্তব্য কী ছিল?
সব আবেদনকারীর ফাইল দ্রুত বিবেচনা করে অনুমোদন বা বাতিল—যে কোনও একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি।
৯) আদালতের বেঞ্চ কারা ছিলেন?
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়।
১০) সিএএ নাগরিকদের জন্য নতুন এসআইআর ফর্ম আসবে কি?
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে।
#CAAUpdate #IndianCitizenship #WestBengalNews