বিয়ের বাজারে অদ্ভুত সংকট চিনে। পাত্রের সংখ্যা অনেক, কিন্তু সেই তুলনায় পাত্রী কম। ফলে উপযুক্ত জীবনসঙ্গীর খোঁজে বহু পুরুষকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আর তাঁদের এই অসহায় পরিস্থিতিকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। বউ খুঁজতে গিয়ে শেষমেশ সঞ্চিত অর্থ হারাচ্ছেন বহু পাত্র। চিনে দীর্ঘদিনের ‘এক সন্তান নীতি’ এবং পুত্রসন্তানের প্রতি সামাজিক অগ্রাধিকারের কারণে নারী-পুরুষের সংখ্যার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। ফলে বহু পুরুষের জন্য উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। বর্তমানে চিনে পুরুষের সংখ্যা নারীর তুলনায় প্রায় ৩ কোটি বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিয়ের জন্য অনেক পুরুষই বিভিন্ন এজেন্ট ও ম্যারেজ সংস্থার দ্বারস্থ হন। আর অভিযোগ, সেখানেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ভুয়ো’ কনে এবং প্রতারকচক্র।
কীভাবে ফাঁদে পড়ছেন পাত্ররা?
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র একটি প্রতিবেদনে এমন প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগ, কিছু বিবাহ সংস্থা পুরুষদের পাত্রী খুঁজে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর তাঁদের একাধিক মহিলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। কোনও মহিলাকে পছন্দ হলে শুরু হয় বিয়ের কথাবার্তা। আর তখনই শুরু হয় প্রতারণার আসল পর্ব।
কখনও বিয়ের খরচ, কখনও উপহার, আবার কখনও পাত্রীপক্ষের বিভিন্ন দাবি—এমন নানা অছিলায় পাত্রের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়। বিয়ের স্বপ্নে বিভোর পাত্র অনেক সময় সেই অর্থ দিয়ে দেন। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরেই বদলে যায় গোটা পরিস্থিতি। আচমকা বন্ধ হয়ে যায় ফোন। মেসেজেরও কোনও উত্তর পাওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয় না, উল্টে সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন প্রতারিত পুরুষেরা।
ওয়াং ঝুয়াংয়ের সঙ্গেও কি হয়েছিল এমনই?
প্রতারণার এমনই একটি অভিযোগ সামনে এসেছে ৩৭ বছর বয়সি ওয়াং ঝুয়াংয়ের ঘটনায়। বয়স বাড়লেও বিয়ে না হওয়ায় তিনি প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। সেই সময় একটি বিবাহ সংস্থার বিজ্ঞাপন তাঁর নজরে আসে। অভিযোগ, সংস্থাটি তাঁকে উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ওয়াং সংস্থাটিকে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪২ লক্ষ টাকা দেন। এর মধ্যে ছিল সংস্থার ফি, পাত্রীপক্ষকে দেওয়া অর্থ এবং বিয়ের অন্যান্য খরচ। ওয়াংকে অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক মহিলার সঙ্গে দেখা করানো হয়। মাত্র ৮-১০ মিনিটের মধ্যে চার-পাঁচ জন মহিলার সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে একজনকে পছন্দ করে বিয়েতে রাজি হন তিনি।
কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পরেই শুরু হয় নতুন সমস্যা।
ওয়াংয়ের কাছে কয়েকজন ঋণ আদায়কারীর ফোন আসতে থাকে। তখনই তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রীর আগে তিনবার বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁর তিনটি সন্তান রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর যৌনরোগে আক্রান্ত থাকার অভিযোগও সামনে আসে। পাশাপাশি জানা যায়, বিয়ের আগেই তিনি ঋণে জর্জরিত ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ওয়াং বিবাহবিচ্ছেদের প্রস্তাব দেন। কিন্তু অভিযোগ, স্ত্রী টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। এরপর আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল ওয়াংয়ের জন্য। তিনি যখন সেই বিবাহ সংস্থার ঠিকানায় যান, তখন দেখেন অফিসটিই আর সেখানে নেই!
বিয়ের আশায় প্রতারণার শিকার
চিনের নারী-পুরুষের সংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা যে বিয়ের বাজারে নতুন ধরনের সমস্যার জন্ম দিয়েছে, এই ঘটনাগুলি তারই একটি দিক তুলে ধরে। উপযুক্ত সঙ্গীর খোঁজে মরিয়া পুরুষদের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করছে অসাধু চক্র—এমন অভিযোগই সামনে এসেছে। তাই বিয়ের জন্য কোনও এজেন্ট বা ম্যারেজ সংস্থার সাহায্য নেওয়ার আগে তার পরিচয়, বিশ্বাসযোগ্যতা, অফিসের ঠিকানা এবং আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে যথেষ্ট যাচাই করা জরুরি। কারণ, জীবনসঙ্গীর খোঁজে গিয়ে যেন শেষ পর্যন্ত সঞ্চয়টুকুও হারাতে না হয়।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.