মুম্বাইয়ের পাইধোনি এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ খাদ্য বিষক্রিয়া বলে মনে করা হলেও দীর্ঘ তদন্তের পর ফরেনসিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা যে তরমুজ খেয়েছিলেন তার ভিতরে ছিল প্রাণঘাতী জিঙ্ক ফসফাইড।
গত ২৬ এপ্রিল ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মৃতদের শরীর থেকে সংগ্রহ করা লিভার, কিডনি এবং পাকস্থলীর নমুনা পরীক্ষা করেন বিশেষজ্ঞরা। মোট ৫৪টি পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে বিষক্রিয়ার মূল উৎস ছিল তরমুজ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওই রাতে পরিবারের সদস্যরা চিকেন পোলাওও খেয়েছিলেন, কিন্তু সেই খাবারে কোনও বিষাক্ত উপাদানের সন্ধান মেলেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিঙ্ক ফসফাইড সাধারণত ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করার পর ফসফিন গ্যাস তৈরি করে, যা দ্রুত ফুসফুস ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ফলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। চিকিৎসকদের ধারণা, সেই কারণেই পরিবারের ১২ বছরের শিশুকন্যার শারীরিক অবনতি সবচেয়ে আগে হয়।
চিকিৎসকদের আরও দাবি, তরমুজ খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারটি হাসপাতালে পৌঁছেছিল। তবে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। বিষের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকায় উপসর্গ প্রকাশ পেতে দেরি হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তরমুজের ভিতরে এই বিষ ঢুকল কীভাবে? তদন্তকারীরা কয়েকটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। একটি সম্ভাবনা হল, ফল বিক্রির জায়গায় ইঁদুর মারার ওষুধের সংস্পর্শে ফল চলে এসেছিল। অন্যদিকে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে ফলের ভিতরে বিষ ঢোকানো হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া চাষের সময় অতিরিক্ত শক্তিশালী কীটনাশক ব্যবহারের দিকেও নজর দিচ্ছে পুলিশ।
তবে মৃত পরিবারের বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে কোনও ধরনের ইঁদুর মারার বিষ উদ্ধার হয়নি। ফলে গোটা ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। বর্তমানে জেজে মার্গ থানার পুলিশ এই মৃত্যুর আসল কারণ এবং এর পিছনে কোনও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.