বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নীনা গুপ্তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহ বরাবরই প্রবল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তন ক্রিকেটার ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁদের মেয়ে মাসাবার জন্মের কাহিনি কমবেশি সকলেরই জানা। সেই সময় ভিভিয়ান বিবাহিত থাকায় নীনার সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্ভব হয়নি। কিন্তু সামাজিক চাপ এবং নানা প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
এরপর একাই মেয়েকে বড় করেছেন নীনা গুপ্তা। তবে সেই পথ যে মোটেই সহজ ছিল না, তা এবার অকপটে জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় বিনোদনমূলক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে নীনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি নিজে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, অন্য কাউকে সেই পথ অনুসরণ করতে উৎসাহিত করবেন না। নীনার কথায়, “আমি এটাকে উৎসাহিত করব না। আমি করেছি বলে তোমরা এটা করো না।” তাঁর মতে, একক অভিভাবক হিসেবে সন্তানকে বড় করা অত্যন্ত কঠিন। এর প্রভাব অভিভাবকের শরীর, মন এবং আর্থিক অবস্থার উপর পড়ে। পাশাপাশি সন্তানের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন অভিনেত্রী।
তবে নীনা এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কেউ যদি নিজের ইচ্ছায় সিঙ্গল প্যারেন্ট হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। সমাজ কী বলল, তা এখানে মূল বিষয় নয় বলেই মনে করেন তিনি। বরং নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানেন, এই যাত্রাপথ কতটা কঠিন হতে পারে। আশির দশকের শেষ দিকে জন্ম হয় নীনা ও ভিভিয়ানের মেয়ে মাসাবার। ভারতে মেয়েকে একাই বড় করেছেন অভিনেত্রী। তবে ছোটবেলা থেকেই একটি বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন তিনি—মাসাবা যেন তাঁর বাবার বিষয়ে অন্য কারও কাছ থেকে কোনও তথ্য না পান। তাই বয়স এবং পরিস্থিতি বুঝে নিজেই মেয়েকে সত্যিটা জানিয়েছেন নীনা।
অভিনেত্রী জানিয়েছেন, মাসাবা যখনই তাঁর বাবার বিষয়ে জানতে চাইতেন, তিনি সত্যিটাই বলতেন। একইসঙ্গে মেয়েকে বুঝিয়েছিলেন, বাবার প্রতি যেন কোনও বিদ্বেষ তৈরি না হয়। নীনার বিশ্বাস, মেয়ের সঙ্গে এই স্বচ্ছতাই তাঁদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। মেয়ের শৈশবে বাবাকে পাশে না পাওয়ার জন্য মাসাবার কাছে একাধিকবার ক্ষমাও চেয়েছেন নীনা। নিজের সেই সময়ের সিদ্ধান্তকে ভুল বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, “ছোটবেলায় বাবা সঙ্গে না থাকার জন্য বহুবার ক্ষমা চেয়েছি। এটা আমার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।”
তবে সময়ের সঙ্গে মাসাবাও পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরেছেন বলে জানান নীনা। তাঁর মতে, জীবনে প্রত্যেক মানুষই ভুল করেন। অনেক সময় বাবা-মা ছোটবেলায় সন্তানকে যে পরামর্শ দেন, সন্তান তা শোনে না; পরে বয়স বাড়লে সেই কথার গুরুত্ব উপলব্ধি হয়।
উল্লেখ্য, মাসাবার জীবনের বিশেষ মুহূর্তেও ভিভিয়ান রিচার্ডসকে পাশে দেখা গিয়েছে। মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন তিনি। নীনার জীবনের কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে আজ মা-মেয়ের সম্পর্ক যে যথেষ্ট দৃঢ়, তাঁর সাম্প্রতিক কথাতেই তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.