দীঘার কাছে তালসারির সমুদ্রতটে একটি শুটিং চলাকালীন ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তরুণ অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু এখনও নাড়া দিয়ে চলেছে টলিপাড়াকে। ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ছবির শুটিং করতে গিয়ে সাগরের জলে তলিয়ে যান তিনি। এই ঘটনার পর থেকেই নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—ঠিক কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে?
ঘটনার সময় রাহুলের সঙ্গে শুটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরলেও, রাহুলের মৃত্যু ঘিরে তাঁর ভূমিকা নিয়ে শুরু হয় তীব্র জল্পনা। টলিপাড়া থেকে শুরু করে নেটমাধ্যম—সব জায়গাতেই একটাই প্রশ্ন, কেন এমন হল?
দেখতে দেখতে এই ঘটনার ২২ দিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি শ্বেতা। তবে সম্প্রতি তাঁর ফ্যান পেজে একটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। সাদা সালোয়ার-কামিজে শ্বেতার একটি ছবি শেয়ার করা হয়, যেখানে ক্যাপশনে লেখা—
“তোমার অনুমতি ছাড়া কেউ তোমাকে হীনম্মন্য বোধ করাতে বা নিচু দেখাতে পারবে না।”
এই বক্তব্যকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নানা ব্যাখ্যা। অনেকেই মনে করছেন, সমালোচনা এবং অভিযোগের চাপের মধ্যেই হয়তো নিজের অবস্থান বোঝাতে চেয়েছেন অভিনেত্রী। আবার কারও মতে, এটি নিছকই মানসিক দৃঢ়তার বার্তা।
এদিকে, শ্বেতার ফ্যান পেজে তাঁর প্রোফাইল ছবিও বদলে দেওয়া হয়েছে। নতুন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের ধারে একা বসে আছেন তিনি—যা আরও রহস্য ঘনীভূত করেছে।
পোস্টের কমেন্ট বক্সে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ার মতো। অধিকাংশেরই দাবি—ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল, তা যেন দ্রুত প্রকাশ্যে আনা হয়। রাহুলের পরিবার যাতে সঠিক বিচার পায়, সেই দাবিও উঠেছে বারবার।
প্রসঙ্গত, রাহুলের মৃত্যুর পর ৩১ মার্চ শুটিংয়ের একটি দৃশ্য শেয়ার করে ফ্যান পেজ থেকে লেখা হয়েছিল, “ভালো থেকো”—যা অনেকের মনেই আবেগ জাগিয়েছিল।
এই কঠিন সময়ে শ্বেতার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর সহ-অভিনেত্রী অনিন্দিতা রায়চৌধুরী। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, শ্বেতা সময়মতো সমস্ত কথা আইন অনুযায়ী জানাবেন। তাঁর মতে, শ্বেতা মানসিকভাবে দৃঢ় এবং সত্য সামনে আনতেই চান।
বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে কলকাতা ও ওড়িশা পুলিশ। কিন্তু এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। শ্বেতার সাম্প্রতিক পোস্ট সেই প্রশ্নগুলোকেই যেন আবার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।
রাহুলের অকাল মৃত্যু যেমন শোকের ছায়া ফেলেছে, তেমনই এই ঘটনার রহস্যও ক্রমশ গভীর হচ্ছে। এখন সবার অপেক্ষা—সত্যিটা ঠিক কবে প্রকাশ্যে আসবে?

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.