রাজ্যে ভোট-পরবর্তী অশান্তির আবহের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় খুন হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ। বুধবার গভীর রাতে মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজ সেরে কলকাতায় ফেরার সময় দোহরিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির পথ আটকে দেয় কয়েকজন দুষ্কৃতী। অভিযোগ, বাইকে এসে খুব কাছ থেকে তাঁর দিকে একাধিক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। হামলায় আহত হয়েছেন গাড়ির চালকও। তাঁর শরীরেও গুলি লাগে বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহকর্মীর মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে ভেঙে পড়েন বলে বিজেপি সূত্রে খবর।
এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অভিনেতা ও বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি শোকপ্রকাশের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, চন্দ্রনাথ রথ শুধু শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী ছিলেন না, বিজেপির অনেক নেতাকর্মীর কাছের মানুষও ছিলেন। এই ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিরোধী কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে। চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু সেই পরিস্থিতিকেই আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে বলে তাদের অভিযোগ। ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজেপির একাধিক নেতা।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। শাসকদলের দাবি, ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক যোগ আছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনও কারণও থাকতে পারে বলে তাদের মত। পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে এবং তদন্তের পরই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলে জানিয়েছে তারা।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে এই খুনের ঘটনার পর ফের একবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.