আরজি কর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ! তিন পুলিশ কর্তা সাসপেন্ড হতেই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া টলিউডে

আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত তিন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহল। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর টলিউডের বহু শিল্পী এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলনের আংশিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। সেই সময় চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষ এবং সাংস্কৃতিক জগতের একাংশ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। রাতভর আন্দোলন, মিছিল, অনশনরত চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ানো—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এক বৃহৎ গণআন্দোলনের রূপ নেয়।

সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ওই ঘটনার তদন্তে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস অফিসার—বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ও অভিষেক গুপ্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে এবং আপাতত তাঁদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার ফাইলও পুনরায় খোলা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা বাদশা মৈত্র। তাঁর মতে, শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, তদন্তকে প্রভাবিত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দায়িত্ব অনেক বেশি, তাই তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, ঘটনার নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না, সেটিও সামনে আসা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

পরিচালক বিরসা দাশগুপ্তও এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র টলিউড নয়, সাধারণ মানুষও সেই সময় রাস্তায় নেমেছিলেন। তাই তদন্ত পুনরায় শুরু হওয়া এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। যদিও বিচারপ্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী মনে করিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলনের মূল দাবি আজও একই রয়েছে—নির্যাতিতার পরিবারের ন্যায়বিচার। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার জনমতের গুরুত্ব না দিয়ে ঘটনাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি চান, কোনও অভিযুক্ত যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে।

অভিনেত্রী ও পরিচালক চৈতি ঘোষালও এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, সেই সময় বহু শিল্পী রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের প্রতিবাদ এবং মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলনই আজকের এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

চৈতির দাবি, মানুষের মধ্যে এখনও ক্ষোভ ও যন্ত্রণার আগুন জ্বলছে। প্রকৃত বিচার এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তিই একমাত্র সেই ক্ষত কিছুটা পূরণ করতে পারে। তাঁর মতে, একজন মায়ের সন্তানের মৃত্যু যে কত বড় বেদনা, তা গোটা রাজ্য অনুভব করেছিল বলেই এত বড় গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল।

নতুন সরকারের এই পদক্ষেপে আপাতত আশার আলো দেখছেন আন্দোলনকারীরা। তবে তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, প্রকৃত বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের দাবি শেষ হচ্ছে না।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক