৪০ পেরোলেই বাড়ে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি, কোন পরীক্ষাগুলি করাবেন নিয়মিত?

নারীরা সাধারণত পরিবারের সকলের শরীর ও সুস্থতা নিয়ে যতটা সচেতন থাকেন, নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে ততটা গুরুত্ব দেন না। সংসার, কর্মজীবন এবং দৈনন্দিন দায়িত্বের চাপে নিজের শরীরের ছোটখাটো সমস্যাগুলিও অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়। কিন্তু দীর্ঘদিনের অনিয়ম, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ওজন বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ৪০ বছরের পর জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, যাঁরা আগে এইচপিভি (HPV) টিকা নেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও জরুরি। কারণ, জরায়ুমুখ ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হল হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। তবে নিয়মিত কিছু স্ক্রিনিং টেস্ট করালে ক্যানসার হওয়ার আগেই শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়তে পারে। ফলে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।

প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট

জরায়ুমুখ ক্যানসার শনাক্ত করার সবচেয়ে পরিচিত পরীক্ষা হল প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট। এই পরীক্ষায় জরায়ুমুখ থেকে কোষের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করা হয়। কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা পরিবর্তন দেখা গেলে আগেভাগেই সতর্ক হওয়া যায়। সাধারণত ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত এই পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতি তিন বছর অন্তর প্যাপ টেস্ট করালে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট

এই পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে ক্যানসার সৃষ্টিকারী HPV ভাইরাস রয়েছে কি না তা জানা যায়। পদ্ধতিটি প্যাপ টেস্টের মতোই হলেও এটি ভাইরাসের উপস্থিতি নির্ণয় করে। ৪০ বছরের পর শুধু প্যাপ টেস্ট নয়, HPV ডিএনএ টেস্টও করানো উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণত এই পরীক্ষার খরচ কিছুটা বেশি হলেও আগাম সতর্কতার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিআরসিএ১ ও বিআরসিএ২ জিন পরীক্ষা

পরিবারে যদি স্তন, ডিম্বাশয় বা জরায়ুমুখ ক্যানসারের ইতিহাস থাকে, তবে বিআরসিএ১ এবং বিআরসিএ২ জিন টেস্ট করানো প্রয়োজন হতে পারে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বংশগত ক্যানসারের ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষ করে ৩০ বছরের পর এই ধরনের জিন স্ক্রিনিং করালে ভবিষ্যতের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা সহজ হয়।

কো-টেস্টিং

৪০ থেকে ৬৫ বছর বয়সি মহিলাদের জন্য কো-টেস্টিং অত্যন্ত কার্যকর। এতে একই সঙ্গে প্যাপ স্মিয়ার ও HPV টেস্ট করা হয়। দুই পরীক্ষার রিপোর্ট স্বাভাবিক এলে পরবর্তী পাঁচ বছর তুলনামূলক নিশ্চিন্ত থাকা যায়। তাই অনেক চিকিৎসক এখন কো-টেস্টিংয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

হিস্টেরোস্কোপি

জরায়ুর ভিতরের অংশ বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করার জন্য হিস্টেরোস্কোপি করা হয়। একটি সরু ক্যামেরাযুক্ত নলের সাহায্যে জরায়ুর অভ্যন্তর দেখা হয়। জরায়ুর আস্তরণে কোনও পলিপ, অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা টিউমার তৈরি হচ্ছে কি না, তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা সম্ভব।

কেন নিয়মিত স্ক্রিনিং জরুরি?

জরায়ুমুখ ক্যানসার এমন একটি রোগ যা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পায়। তাই বয়স ৪০ পেরোলেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে HPV টিকা না নেওয়া থাকলে স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। সচেতনতা এবং সময়মতো পরীক্ষা— এই দুইই পারে বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক