স্বাস্থ্যসাথী থেকে আয়ুষ্মান ভারত: ৬ কোটি মানুষকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমায় আনছে রাজ্য, ঘোষণা শুভেন্দুর

রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল নতুন রাজ্য সরকার। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, এতদিন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রায় ৬ কোটি মানুষকে কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি যাঁরা এখনও কোনও সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নেই, তাঁরাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।

শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। বৈঠকে রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য নতুন রূপরেখা তৈরির কথাও ঘোষণা করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির সঙ্গে সমন্বয় করেনি। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি তাঁর। তিনি জানান, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারতের অন্তর্ভুক্তির কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই উপভোক্তাদের হাতে আয়ুষ্মান কার্ড পৌঁছে দেওয়া। এর ফলে রাজ্যের মানুষ শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা নিতে পারবেন।

সরকার জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডধারীদের সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যাঁরা এতদিন কোনও প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেননি, তাঁদের জন্যও আবেদন করার সুযোগ থাকবে। রাজ্যের বাইরে কর্মসূত্রে থাকা প্রায় ১ কোটি বাঙালিও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়া জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে দিল্লিতে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রী এবং আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাতেও জোর দিচ্ছে সরকার। রাজ্যে প্রথমবারের মতো সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধী টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ মে বিধাননগর সাব-ডিভিশন হাসপাতালে এই প্রকল্পের সূচনা হবে। প্রথম পর্যায়ে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের টিকা দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পশ্চিমবঙ্গের জন্য সাত লক্ষেরও বেশি ডোজ় বরাদ্দ করা হয়েছে।

একই দিনে টিবি-মুক্ত ভারত কর্মসূচি নিয়েও রাজ্যে বিশেষ কর্মশালা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

স্বল্পমূল্যে ওষুধ পৌঁছে দিতে রাজ্যে ৪৬৯টি প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই কেন্দ্রগুলিতে জেনেরিক ওষুধ অনেক কম দামে পাওয়া যাবে এবং দুরারোগ্য রোগের ওষুধেও প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ২০০০ টাকার ওষুধ মাত্র ২০০ টাকাতেও পাওয়া সম্ভব হবে।

রাজ্যের প্রতিটি প্রশাসনিক জেলায় মেডিক্যাল কলেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। বর্তমানে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, আসানসোল এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজ নেই। এই জেলাগুলিতে প্রয়োজনীয় জমি ও অবকাঠামোর প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে নতুন এমস তৈরির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

শিশুমৃত্যুর হার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম এবং মালদহ জেলায় পাঁচ বছরের নীচে শিশু মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার নজরদারি আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অর্থ বরাদ্দের প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, চলতি অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যখাতে কেন্দ্রীয় সরকার ২১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং তার একাংশ ইতিমধ্যেই রাজ্যের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক