বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে ছোটখাটো ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক বলে মনে হয়। কিন্তু যদি সেই ব্যথা বারবার ফিরে আসে, কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয় বা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তবে সেটিকে শুধুমাত্র ক্লান্তির ফল বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী শরীরব্যথার নেপথ্যে হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, প্রদাহজনিত সমস্যা কিংবা অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতা লুকিয়ে থাকতে পারে।
বিশেষ করে ৩০ বছরের পর নারীদের শরীরে কিছু পরিবর্তন শুরু হয়, যার কারণে নির্দিষ্ট কিছু ধরনের ব্যথাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
১. ঘাড় ও কাঁধে নিয়মিত ব্যথা

বর্তমান কর্মজীবনে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ভুল ভঙ্গিতে বসার কারণে ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা খুবই সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠেছে। তবে এই ব্যথা যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে তা পেশির অতিরিক্ত চাপ বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
এই ঝুঁকি কমাতে প্রতি ঘণ্টায় কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া, হালকা স্ট্রেচিং করা এবং সঠিক ভঙ্গিতে বসার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
২. কোমরের নীচের অংশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
অনেকেই কোমরব্যথাকে অতিরিক্ত কাজের ফল বলে মনে করেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শরীরচর্চার অভাব, দুর্বল পেশি কিংবা মেরুদণ্ডের প্রাথমিক সমস্যার কারণেও এই ব্যথা দেখা দিতে পারে।
যদি হাঁটা, বসা, ঘুমানো বা দৈনন্দিন কাজে এই ব্যথা বারবার সমস্যা তৈরি করে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. হাঁটু, কবজি বা গোড়ালির জয়েন্টে ব্যথা
জয়েন্টে ব্যথা অনেক সময় ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে এটি প্রদাহজনিত রোগের প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।
শুধু ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে মূল কারণ জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪. শরীরের বিভিন্ন পেশিতে একসঙ্গে ব্যথা
একাধিক পেশিতে একসঙ্গে ব্যথা হলে সেটিকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং বিশ্রামের অভাবের কারণে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত বিশ্রাম এবং কাজের সঙ্গে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
৫. ঋতুস্রাবের সময় অসহনীয় ব্যথা
ঋতুস্রাবের সময় হালকা ব্যথা স্বাভাবিক হলেও প্রতি মাসে যদি ব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠে বা স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করে, তাহলে সেটি অবহেলা করা ঠিক নয়।
এ ধরনের সমস্যা কখনও কখনও পিসিওএস, এন্ডোমেট্রিওসিস বা অন্যান্য স্ত্রীরোগের লক্ষণ হতে পারে। তাই সময় নষ্ট না করে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জীবনযাপনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ
দীর্ঘদিনের শরীরব্যথার সঙ্গে অনিয়মিত জীবনযাপন, পুষ্টির ঘাটতি এবং মানসিক চাপের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২ ও ভিটামিন ডি-এর অভাব শরীরকে দুর্বল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলে পেশি ও জয়েন্টের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
তাই প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা, হালকা ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার অভ্যাস শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রচন্ড মাথা ব্যাথা! মাইগ্রেনের যন্ত্রণা শুরুর আগেই তা আটকাবেন কিভাবে? রইলো সেরা উপায়
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি শরীরের ব্যথা টানা দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি থাকে, প্রতিদিনের কাজ ব্যাহত করে বা তার সঙ্গে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, জ্বর, শরীর ফুলে যাওয়া কিংবা ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মনে রাখতে হবে, সব ধরনের শরীরব্যথার কারণ এক নয়। সময়মতো সঠিক কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপনও সহজ হয়।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.