Sanjay Dutt: মা কোমায়, দেশে ফিরে শুটিং শেষ করার নির্দেশ বাবার! মৃত্যুশয্যায় নার্গিস, অতীতের কঠিন দিনের কথা জানালেন সঞ্জয়

চার দশক পেরিয়ে গেলেও মায়ের শেষ দিনগুলোর স্মৃতি এখনও সঞ্জয় দত্তের মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে। কিংবদন্তি অভিনেত্রী নার্গিস দত্তের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই, নিউ ইয়র্কের হাসপাতালে কাটানো কঠিন সময় এবং তাঁর মৃত্যুর আগে পরিবারের সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা সম্প্রতি স্মরণ করেছেন সঞ্জয় দত্ত (Sanjay Dutt)।

এআইজি হসপিটালস-এর একটি পডকাস্টে নিজের জীবনের সেই কঠিন অধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় জানান, তখন তিনি ছিলেন মাত্র ১৯-২০ বছরের তরুণ। একদিকে মায়ের জীবন-মৃত্যুর লড়াই, অন্যদিকে মুক্তির অপেক্ষায় তাঁর প্রথম ছবি ‘রকি’। এই দুইয়ের মাঝে বাবা সুনীল দত্ত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেই সময় তা মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে মোটেই সহজ ছিল না।

কোমায় মা, তবু দেশে ফিরে ‘রকি’র কাজ শেষ করার নির্দেশ

আশির দশকের গোড়ার দিকে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হন নার্গিস দত্ত। সেই সময় চিকিৎসাব্যবস্থা আজকের মতো উন্নত ছিল না। উন্নত চিকিৎসার আশায় তাঁকে নিউ ইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিং ক্যানসার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর জটিল অস্ত্রোপচারও হয়।

মাকে সুস্থ করে তুলতে পরিবারের সদস্যরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। সঞ্জয় ও তাঁর বোনেরা মায়ের চিকিৎসার জন্য প্লেটলেটও দান করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। একসময় কোমায় চলে যান নার্গিস।

ঠিক সেই সময় ভারতে মুক্তির প্রস্তুতি চলছিল সঞ্জয় দত্ত( Sanjay Dutt)-এর প্রথম ছবি ‘রকি’র। মায়ের শারীরিক অবস্থা যখন অত্যন্ত সংকটজনক, তখনই সুনীল দত্ত ছেলেকে দেশে ফিরে ছবির বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।

সঞ্জয়ের কাছে সেই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাঁর কথায়, সেই বয়সে তিনি বুঝতেই পারেননি—মা যখন হাসপাতালে কোমায়, তখন কীভাবে তাঁকে দেশে ফিরে শুটিং শেষ করতে বলা হচ্ছে! তবু বাবার কথা অমান্য করেননি তিনি। ভারতে ফিরে এসে ‘রকি’র কাজ শেষ করেন।

নিজের বাড়িতে ফিরতে চেয়েছিলেন নার্গিস

মায়ের শেষ ইচ্ছার কথাও স্মরণ করেছেন সঞ্জয়। তাঁর কথায়, নার্গিসের প্রবল ইচ্ছা ছিল দেশে, নিজের বাড়িতে ফিরে আসা। অসুস্থ শরীর নিয়েও যেন সেই বাড়ি ফেরার আকাঙ্ক্ষাই তাঁকে লড়াই করার শক্তি দিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত নিউ ইয়র্ক থেকে ভারতে ফিরতে সক্ষম হন নার্গিস। কিন্তু নিজের বাড়িতে পৌঁছনোর পর যেন তাঁর দীর্ঘ লড়াই থেমে যায়। দেশে ফেরার কিছুদিনের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর।

নার্গিস দত্তের মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, গোটা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের কাছেই ছিল এক গভীর শোকের মুহূর্ত। মায়ের শেষ দিনগুলোর সেই স্মৃতি আজও সঞ্জয়ের মনে আবেগ তৈরি করে।

‘কড়া বাবা’ সুনীল দত্তের কাছ থেকেই মূল্যবোধের শিক্ষা

সঞ্জয় দত্তের জীবনে সুনীল দত্তের প্রভাবও ছিল অত্যন্ত গভীর। বাবাকে কঠোর অভিভাবক হিসেবে মনে পড়লেও তাঁর কাছ থেকেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধগুলি শিখেছেন সঞ্জয়।

গুরুজনদের সম্মান করা থেকে শুরু করে চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা—সবকিছুর পিছনেই বাবার শিক্ষাকে কৃতিত্ব দেন তিনি। এমনকি কোনও চিকিৎসক বয়সে তাঁর চেয়ে ছোট হলেও তাঁকে যথাযথ সম্মান করেন সঞ্জয়। কারণ, ছোটবেলা থেকেই সুনীল দত্ত তাঁকে শিখিয়েছিলেন—জ্ঞান, পেশা ও দায়িত্বকে সম্মান করতে হয়, ব্যক্তির বয়সকে নয়।

বাবার সিদ্ধান্তের অর্থ বুঝতে সময় লেগেছিল

সেই সময় বাবার সিদ্ধান্তকে কঠোর মনে হলেও আজ পিছন ফিরে তাকালে সঞ্জয় দত্ত বুঝতে পারেন, পরিস্থিতির চাপে সুনীল দত্তকে একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল। ছেলের কেরিয়ারের শুরু, ছবির মুক্তি এবং নার্গিসের চিকিৎসা—সবকিছুর মাঝেই তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।

মায়ের মৃত্যুর যন্ত্রণা, বাবার কঠোর অনুশাসন এবং নিজের কেরিয়ারের শুরুর সেই দিনগুলো—সব মিলিয়ে সঞ্জয় দত্তের জীবনের অন্যতম আবেগঘন অধ্যায় হয়ে রয়েছে নার্গিসের শেষ সময়। চার দশক পরেও সেই স্মৃতি তাঁর কাছে একই রকম জীবন্ত।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক