Bageshwar Baba: মুখ দেখেই নাকি বলে দিতে পারেন মানুষের অতীত-ভবিষ্যৎ। ভক্তদের দেওয়া খাম না খুলেই তাঁদের পরিচয় ও সমস্যার কথা বলে দেওয়ার দাবিও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকী তাঁর আশীর্বাদে কঠিন রোগ সেরে যায়—এমন দাবিও শোনা যায় তাঁর ভক্তদের মুখে। সেই বাগেশ্বর বাবা, অর্থাৎ ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে নিয়ে তাই বরাবরই মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এসে দুর্গাপুজো ও নবরাত্রি নিয়ে মন্তব্য করে ফের খবরের শিরোনামে তিনি। কিন্তু কীভাবে মধ্যপ্রদেশের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান থেকে জনপ্রিয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী? তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো গল্পই বা কী?
দারিদ্র্যের মধ্যেই কেটেছে শৈশব
বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত হলেও তাঁর আসল নাম ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলার গাদা গ্রামে তাঁর জন্ম। বাবা রাম কৃপাল গর্গ পেশায় পুরোহিত ছিলেন। মা সরোজ গর্গ। পরিবারের দুই সন্তানের মধ্যে ধীরেন্দ্রই বড়। ছোটবেলা থেকেই আর্থিক অনটনের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। কুঁড়েঘরে বসবাস করেই কেটেছে শৈশব। গ্রামের স্কুলেই পড়াশোনা করেন ধীরেন্দ্র। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করার অভ্যাসও তাঁর ছোটবেলা থেকেই ছিল বলে জানা যায়।
যে রাত বদলে দিয়েছিল তাঁর জীবন
বাগেশ্বর ধামের ওয়েবসাইটে তাঁর জীবনের একটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, যেটিকে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর আধ্যাত্মিক জীবনে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরা হয়। তখন তিনি কিশোর। এক রাতে প্রবল বৃষ্টিতে তাঁদের পরিবার কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। বাড়িতে খাবারও ছিল না। প্রবল বৃষ্টির কারণে বাইরে গিয়ে খাবার জোগাড় করার উপায়ও ছিল না। খিদের জ্বালায় পরিবারের সদস্যদের কান্নায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ধীরেন্দ্র।
পরের দিন তিনি তাঁর দাদুর কাছে যান। তাঁর দাদু বাগেশ্বর ধাম মন্দিরে থাকতেন। দাদুর ওপর অভিমান করে ধীরেন্দ্র প্রশ্ন করেন, তাঁর যদি এত আধ্যাত্মিক ক্ষমতা থাকে, তাহলে পরিবারের এই দুর্দশা কেন দূর করতে পারছেন না? কেন তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা কিংবা অর্থের সন্ধান দিতে পারছেন না? দাদুর সঙ্গে কথোপকথনের পর তাঁর নির্দেশ মেনে স্নান করে পুজোয় বসেন ধীরেন্দ্র। বাগেশ্বর ধামের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই সময়ই তাঁর সঙ্গে বালাজির আধ্যাত্মিক যোগ তৈরি হয়। এরপর থেকেই নাকি ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিকতার পথে এগিয়ে যেতে শুরু করেন তিনি।
এখন বাগেশ্বর ধামের অন্যতম প্রধান মুখ
বর্তমানে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বাগেশ্বর ধামের সঙ্গে যুক্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম। শুধু ধর্মীয় কর্মকাণ্ড নয়, সামাজিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত থাকার দাবি রয়েছে বাগেশ্বর ধামের। সেখানে গণবিবাহের আয়োজন করা হয়। দরিদ্র পরিবারের জন্য বিনামূল্যে বিয়ের ব্যবস্থা, খাবার বিতরণ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়।
ছাতারপুরে ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওই হাসপাতালের শিলান্যাস করেন বলে বাগেশ্বর ধামের তরফে জানানো হয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
নানা বিতর্কেও জড়িয়েছে তাঁর নাম
তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি একাধিক বিতর্কেও জড়িয়েছেন বাগেশ্বর বাবা। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এসে দুর্গাপুজো ও নবরাত্রির সময় আমিষ খাবার রান্না বা খাওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে বাংলায় রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, “বাঙালি কী খাবে, সেটা কোনও সাধু ঠিক করে দেবেন না।”
এছাড়াও মহারাষ্ট্রের অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূল সমিতির মতো সংগঠন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছে। খামের কাগজ দেখে মানুষের সমস্যা বা ভবিষ্যৎ বলে দেওয়ার দাবিকেও অবৈজ্ঞানিক বলে প্রশ্ন তুলেছে ওই সংগঠন।
রোগ সারানো নিয়েও বিতর্ক
বাগেশ্বর বাবার কিছু বক্তব্য চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়েও বিতর্ক তৈরি করেছে। ক্যান্সারের মতো রোগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওষুধের পরিবর্তে আশীর্বাদ বা বিশেষ ভস্মের কথা বলা হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ধরনের দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
আরও পড়ুন,
তারা মায়ের কৃপা সবচেয়ে বেশি থাকে এই ৪ রাশিতে, কৌশিকী অমাবস্যার আগেই জেনে নিন
সব মিলিয়ে, দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর আধ্যাত্মিক জগতে উত্থানের গল্প যেমন তাঁর ভক্তদের কাছে বিশ্বাস ও ভক্তির বিষয়, তেমনই তাঁর বিভিন্ন দাবি ও বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। আর সেই কারণেই বাগেশ্বর বাবা আজ দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.