রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, তার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়েতে শুরু করেছে টলিউডের অন্দরমহলেও। বিশেষ করে প্রযোজকদের সংগঠন ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইমপা)-কে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরদিনই ইমপা-র দফতরে একদল প্রযোজক জড়ো হন। সেখানে তাঁদের গেরুয়া আবির খেলার ছবি সামনে আসে, যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। সেই সঙ্গেই সংগঠনের বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে পদ ছাড়ার দাবিও ওঠে।
এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন কয়েকজন প্রযোজক বৌবাজার থানায় পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শুধু অভিযোগই নয়, প্রশাসনের কাছে সংগঠনের অফিস সিল করে দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারী প্রযোজকদের বক্তব্য, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের দাবি, যে কোনও সময় সেই ফাইল সরিয়ে ফেলা হতে পারে। তাই অফিস সিল করে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা এড়ানো যাবে।
এই প্রসঙ্গে পিয়া সেনগুপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। ফলে কেউ যদি কোনও পদক্ষেপ নিতে চান, তা তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
এদিকে, টলিপাড়ার ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এতদিন যাঁদের প্রভাবশালী বলে মনে করা হত, নির্বাচনের ফলাফল সেই ধারণায় বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে একাধিক পরিচিত মুখ রাজনৈতিকভাবে নতুন অবস্থানে পৌঁছনোয় টলিউডের অভ্যন্তরীণ সমীকরণও বদলাতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
গত কয়েক মাস ধরেই টলিউডে নানা বিতর্ক, মতবিরোধ এবং বিভাজনের খবর সামনে এসেছে। ব্যান কালচার থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত ছিল পরিবেশ। এই নতুন পরিস্থিতিতে ইমপা-র ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায় এবং নেতৃত্বে কোনও পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সকলের।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.