২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণ খুঁজতে নানা মহলে চলছে বিশ্লেষণ ও আলোচনা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্রের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নতুন করে নজর কেড়েছে।
সম্প্রতি তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তোলা একটি পুরনো ছবি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ না করলেও রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের আশঙ্কা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল। বিশেষ করে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস বা সংস্কৃতি নিয়ে যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে পারেনি।
মৈত্রেয়ী ইঙ্গিত দেন, রাজ্যের মানুষ আসলে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক পরিবেশে জীবনযাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই চাহিদা রাজনৈতিক নেতৃত্ব ঠিকমতো উপলব্ধি করতে পারেনি বলেই হয়তো এত বড় পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার সময় বাংলার মানুষের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস ও আবেগ দেখা গিয়েছিল, তা ছিল নজিরবিহীন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই আবেগ অনেকটাই ক্ষয়ে গেছে।
অভিনেত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি বলেন, দলের কিছু নেতাকর্মীর আচরণ ও নানা অভিযোগের প্রভাব শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বের উপরেই পড়ে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও হতাশার দায় এড়ানো যায় না।
তবে সমালোচনার মাঝেও মৈত্রেয়ী স্পষ্ট করে দেন যে ব্যক্তি হিসেবে তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অত্যন্ত সম্মান করেন। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তাঁর সঙ্গে আবার কথা বলার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মানুষের অভিমান ও অভিযোগকে সহানুভূতি ও ভালোবাসার মাধ্যমে দূর করার চেষ্টা করবেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
পোস্টের শেষ অংশে আবেগঘন সুরে অভিনেত্রী লেখেন, তিনি চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার আগের মতো মানুষের কাছের মানুষ হয়ে উঠুন। তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেই নিজের বক্তব্য শেষ করেন মৈত্রেয়ী মিত্র।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.