সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সর মনজিৎ কৌরের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মনজিৎকে নির্যাতনের পর গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার প্রায় দু’মাস পর চণ্ডীগড় থেকে মূল অভিযুক্ত রিঙ্কুর সহযোগী পারমিদর সিং ওরফে পিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় পিন্দা জানিয়েছেন, রিঙ্কু ও মনজিৎ কৌরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। গত ৩ জুলাই তাঁদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধরে কথা কাটাকাটি হয়। পরে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ এলাকায় পৌঁছালে সেই বিবাদ হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয় বলে দাবি তদন্তকারীদের।
পুলিশের কাছে দেওয়া পিন্দার বয়ান অনুযায়ী, এরপর মনজিৎকে সেক্টর ৩৪-এর একটি পার্কের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর উপর নির্যাতন চালানো হয় এবং পরে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত ৩ জুলাই। অভিযোগ, পরিচিত দুই যুবক মনজিৎকে দেখা করার জন্য ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে জোর করে তাঁকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মোরিন্ডা নামে একটি এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাঁর উপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মনজিৎকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে পরে চণ্ডীগড়ের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ২৬ অগস্ট সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
পরিবারের দাবি, ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই অসুস্থ অবস্থায় মনজিৎ পুলিশের কাছে নিজের বয়ান দিতে চেয়েছিলেন। থানায় খবরও দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর বয়ান রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ। যদিও পুলিশের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তদন্তে মনজিতের পরিবারের সঙ্গে সবরকম সহযোগিতা করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
কে এই পারমিদর সিং ওরফে পিন্দা?
তদন্তে জানা গিয়েছে, পারমিদর সিং ওরফে পিন্দা আগে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকে তিনি মূল অভিযুক্ত রিঙ্কুর চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, রিঙ্কু ও পিন্দার মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল।
পিন্দাকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বয়ানের ভিত্তিতে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। মনজিৎ কৌরের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভূমিকা এবং মূল অভিযুক্ত রিঙ্কুর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.