ভয়ংকর হড়পা বানের ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই নতুন বিপদের আশঙ্কা নেপালে। একদিকে এখনও নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষ, অন্যদিকে নদীতে ভেসে আসছে পচাগলা মৃতদেহ। এরই মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় সংক্রমণ ও মহামারীর আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে নেপাল প্রশাসন। গত বুধবার হিমবাহ ধসের জেরে ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘটনার পর ছয় দিন কেটে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। মৃতের সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও নিখোঁজ সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ। উদ্ধারকাজ চললেও একের পর এক পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘ সময় বন্যার জলে পড়ে থাকার কারণে বহু মৃতদেহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেহ শনাক্ত করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন মৃতদেহগুলির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখছে। এরপর নদী তীরবর্তী এলাকায় গণকবর দেওয়া হচ্ছে দেহগুলি। ভবিষ্যতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন দূষিত জল ও খাদ্য থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। মৃতদেহ দীর্ঘদিন নদীর জলে থাকার ফলে জল দূষিত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। তাই সাধারণ মানুষকে নদীর জল পান না করার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু জল নয়, বন্যাকবলিত এলাকা বা নদী তীরবর্তী অঞ্চল থেকে কোনও খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। দূষিত জল বা খাদ্য গ্রহণ করলে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এবার সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে নেপালের বিভিন্ন হাসপাতাল ও উদ্ধারকেন্দ্রে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। হাসপাতালের বাইরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলির মধ্যে এখনও মাত্র কয়েক ডজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
দীর্ঘ সময় জলে থাকার কারণে অনেক দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ায় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই কারণেই ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। এর মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে নতুন করে উদ্বেগের খবর দিয়েছে নেপাল প্রশাসন। দেশের একাধিক জেলায় ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও হড়পা বানের আশঙ্কাও রয়েছে। নেপালের পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলায় নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় হড়পা বান ধেয়ে আসার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তাপলেজুং, শঙ্খুয়াসভা, সোলুখুম্বু, খোটাং, ওখালঢুঙ্গা এবং রামেচাপ-সহ একাধিক জেলায় জলস্তর বৃদ্ধি ও আকস্মিক বন্যার মাঝারি ঝুঁকির কথা জানানো হয়েছে। পশ্চিম নেপালেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গোর্খা, লামজুং, ডলপা, রুকুম পূর্ব এবং রুকুম পশ্চিম-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এখনও উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। তার মধ্যেই নতুন করে বন্যা ও হড়পা বানের আশঙ্কা এবং সম্ভাব্য সংক্রমণের ভয়—সব মিলিয়ে নেপালজুড়ে আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপদ জল ও খাবার ব্যবহারের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.