‘জলের রঙ গাঢ় হচ্ছে’, ফের নয়া বিপদের সতর্কবার্তা নেপালে! উদ্ধারকারী টিম পাঠাল ভারত, ত্রাণে কী কী?

Nepal on New Alert: প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে এখনও বিপর্যস্ত নেপাল। হড়পা বান ও বন্যার জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নেমে এসেছে বিপর্যয়। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা প্রায় ৬০০-র কাছাকাছি। নিখোঁজ বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একদিকে যখন নিখোঁজদের উদ্ধারে জোরকদমে অভিযান চলছে, তখনই নেপালের সামনে আরও একটি বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিনের তরফে নেপালকে নতুন করে সতর্ক করা হয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, লেন্দে নদী ব্যবস্থার উজানে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ যেকোনও মুহূর্তে বিপদ ডেকে আনতে পারে। হ্রদটির জল দুই কূল ছাপিয়ে গেলে জল-বিস্ফোরণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চিনের দেওয়া সতর্কবার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে হ্রদের জলের রঙের পরিবর্তনের কথা। জানানো হয়েছে, ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে তৈরি হওয়া হ্রদটির জলের রঙ ক্রমশ গাঢ় হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তনকে সম্ভাব্য বিপদের অশনি সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। চিনের আশঙ্কা, হ্রদটি ফেটে গেলে নীচের দিকে থাকা নদীগুলিতে আচমকা জলের প্রবাহ বাড়তে পারে।

তবে বেইজিংয়ের তরফে এটাও জানানো হয়েছে যে, হ্রদটি ফেটে গেলেও নদীতে সর্বোচ্চ জলপ্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটারের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। হ্রদে জলের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় নিম্নমুখী নদীগুলিতে জলের প্রবাহ কিছুটা বাড়লেও তা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পৌঁছবে না বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন,
হড়পা বান-ভূমিকম্পের ভয়াবহতার মাঝে নেপাল থেকে ফিরলেন খরাজ, জানালেন কীভাবে বাঁচলেন

এই পরিস্থিতিতে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই তিন দফায় ত্রাণসামগ্রী নেপালে পৌঁছেছে। ভারতের তৃতীয় ত্রাণবাহী চালানটি ১০ টন মানবিক সহায়তা নিয়ে বন্যাবিধ্বস্ত নেপালে পৌঁছেছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর জানিয়েছেন, ১১ সদস্যের একটি চিকিৎসা ও সুড়ঙ্গ-উদ্ধারকারী দলও বর্তমানে নেপালে রয়েছে।

জানা গিয়েছে, ভয়াবহ বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কর্মরত কয়েকজন মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের উদ্ধারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং অনুসন্ধানকারী দলের সদস্যদের নিয়ে এই দলটি কাজ করছে। ভারতের তৃতীয় চালানে রয়েছে বহনযোগ্য জেনারেটর, ‘ডিগনিটি কিট’, খাবারের প্যাকেট এবং জল বিশুদ্ধকরণের ট্যাবলেট। বিপর্যস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতেই এই সামগ্রীগুলি পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন,
‘প্রকৃতির এমন রুদ্ররূপ আগে দেখিনি’, বানভাসি নেপালের জন্য চোখে জল ভূমিকন্যা মনীষা কৈরালার!

এর আগে ২৬ অগাস্ট নেপালে পৌঁছেছিল ভারতের প্রথম ত্রাণবাহী বিমান। সেই চালানে ছিল অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, কম্বল, হাইজিন কিট, সোলার ল্যাম্প এবং ওষুধ-সহ মোট ১০ টন ত্রাণসামগ্রী। এর পর ২৭ অগাস্ট দ্বিতীয় বিমানটি নেপালে পৌঁছয়। ওই বিমানে ছিল ৩৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী। তাঁবু, কম্বল, জল নিষ্কাশনের পাম্প, রান্নার সরঞ্জাম, জেনারেটর, ওষুধ এবং খাদ্যসামগ্রী পাঠানো হয়।

শুধু ত্রাণ নয়, বন্যার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারেও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারত। প্রয়োজন অনুযায়ী বেইলি ব্রিজ এবং কারিগরি দল পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একদিকে নতুন করে হ্রদ ফেটে বন্যার আশঙ্কা, অন্যদিকে নিখোঁজদের উদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা—সব মিলিয়ে এখনও চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে নেপাল। এই পরিস্থিতিতে চিনের সতর্কবার্তার পর নতুন বিপদ কতটা বড় আকার নেয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক