কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চার জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাঁদের তিন বছরের পুত্রসন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর মহম্মদ আকরাম। এই ঘটনায় আরও এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুন লাগে। একই ভবনে আরও কয়েকটি হোটেল থাকায় আগুনের ধোঁয়া দ্রুত আশপাশের অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। দমবন্ধ হয়ে মোট ন’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মৃতদের মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত ‘আজকের পত্রিকা’-র কুষ্টিয়া জেলা সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতেন। পুত্রসন্তান এবং শ্বশুরের চিকিৎসার জন্য গত ৩ অগস্ট পরিবারের সঙ্গে ভারতে এসেছিলেন তিনি। বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর ১৮ অগস্ট বিমানে কলকাতায় ফেরেন। কলকাতা থেকেই তাঁদের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
দেবাশীষের আত্মীয়, মালদহের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী সেই সময় ব্যবসার কাজে কলকাতায় ছিলেন। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউ মার্কেট থানায় যান। পরে কলকাতা পুলিশ মর্গে গিয়ে দেহ শনাক্ত করেন তিনি।
কুষ্টিয়ায় দেবাশীষের সহকর্মী শামীম আদনান জানান, দেবাশীষের আট বছরের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তাঁর বাবা-মা জীবিত। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁরা উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন এবং পরিবারের খোঁজখবর শুরু করেন। পরে কলকাতা থেকে বাংলাদেশের একটি সূত্রের মাধ্যমে দেবাশীষ ও তাঁর পরিবারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা নিউ মার্কেট থানা এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে মৃত ন’জনের মধ্যে ছ’জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি তিন জনের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.