অতিরিক্ত জল ঘাঁটলে তো বটেই, নখ কাটার ভুলেও হয় নখকুনি! এই ঘরোয়া উপায়েই মিলবে স্বস্তি

নখের পাশের চামড়া লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, সামান্য ছোঁয়াতেই ব্যথা কিংবা নখের কোণে পুঁজ জমে যাওয়া— এমন সমস্যার মুখোমুখি অনেকেই হন। সাধারণভাবে এই সমস্যাকে বলা হয় নখকুনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি প্যারোনাইকিয়া (Paronychia) নামে পরিচিত। সময়মতো যত্ন না নিলে সংক্রমণ নখের চারপাশে ছড়িয়ে গিয়ে জটিল আকার নিতে পারে।

নখকুনি কী?

নখের চারপাশের চামড়া ও নখের ভাঁজে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ হলে নখকুনি হয়। হঠাৎ শুরু হলে একে অ্যাকিউট প্যারোনাইকিয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে হলে ক্রনিক প্যারোনাইকিয়া বলা হয়।

কেন হয় নখকুনি?

নখের চারপাশের চামড়া শরীরকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। সেখানে সামান্য ক্ষত তৈরি হলেই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাধারণ কারণগুলি হল—
*নখ খুব ছোট করে কাটা
*নখের পাশের চামড়া কেটে বা টেনে ফেলা
*দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানোর অভ্যাস
*ম্যানিকিওর বা পেডিকিওরের সময় অসাবধানতা
*দীর্ঘক্ষণ জল বা ভেজা পরিবেশে কাজ করা
*নখে আঘাত লাগা বা নখের অন্য সমস্যা

নখকুনির লক্ষণ

নখকুনি হলে সাধারণত যে লক্ষণগুলি দেখা যায়—
*নখের পাশের চামড়া লাল হয়ে যাওয়া
*আক্রান্ত স্থানে ফোলাভাব
*স্পর্শ করলে বা চাপ দিলে ব্যথা
*জায়গাটি গরম অনুভূত হওয়া
*নখের পাশে পুঁজ জমা
*নখের রং বা গঠনে পরিবর্তন
সংক্রমণ বাড়লে জ্বরও আসতে পারে

ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে যত্ন নেবেন?

সমস্যা যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে এবং পুঁজ না জমে, তবে কিছু সহজ উপায়ে আরাম পাওয়া যেতে পারে।
*দিনে ৩–৪ বার আক্রান্ত আঙুল হালকা গরম জলে ১০–১৫ মিনিট চুবিয়ে রাখুন।
*পরে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
*আক্রান্ত অংশ সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
*পায়ের নখে সমস্যা হলে ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক জুতো পরুন।
*হাতে নখকুনি হলে জল ও ডিটারজেন্টের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কমান এবং প্রয়োজন হলে গ্লাভস ব্যবহার করুন।
*নিজের ইচ্ছামতো অ্যান্টিবায়োটিক বা মলম ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কী করবেন না?

নখকুনি হলে কিছু ভুল অভ্যাস বিপদ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
*পুঁজ নিজে থেকে ফোটানোর চেষ্টা করবেন না।
*সুঁচ, ব্লেড বা ধারালো জিনিস দিয়ে পুঁজ বের করবেন না।
*অতিরিক্ত জীবাণুনাশক বা রাসায়নিক ব্যবহার করবেন না, এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন—
*নখের পাশে পুঁজ জমে গেলে
*ব্যথা ও ফোলাভাব দ্রুত বাড়তে থাকলে
*লালচে ভাব আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে
*নখের নীচে সংক্রমণ দেখা দিলে
*জ্বর এলে

প্রয়োজনে চিকিৎসক পুঁজ বের করে দিতে পারেন এবং সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বা ছত্রাকনাশক ওষুধ দিতে পারেন।

কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?

নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের নখকুনিকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়—
*ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
*যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম
*যাঁদের দীর্ঘ সময় জল বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে কাজ করতে হয়

নখকুনি প্রতিরোধের উপায়
*নখ নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।
*নখ খুব ছোট করে কাটবেন না।
*পায়ের নখ সোজা করে কাটুন, কোণ বেশি গভীর করবেন না।
*নখের কিউটিকল অকারণে কাটবেন না।
*নখ কামড়ানো বা পাশের চামড়া ছিঁড়ে ফেলার অভ্যাস ত্যাগ করুন।
*ম্যানিকিওর বা পেডিকিওরের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত কি না নিশ্চিত করুন।
*নখের পাশে সামান্য ক্ষত হলেও অবহেলা করবেন না।

পায়ে ব্যথা মানেই কি পায়ের সমস্যা? সায়াটিকার লক্ষণ চিনবেন কীভাবে

উপসংহার
নখকুনি প্রথমে ছোট সমস্যা মনে হলেও সময়মতো যত্ন না নিলে এটি গুরুতর সংক্রমণের কারণ হতে পারে। তাই নখের চারপাশে লালভাব, ফোলাভাব বা ব্যথা দেখা দিলেই সতর্ক হন। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পরিচর্যা করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে পুঁজ, জ্বর বা তীব্র ব্যথা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক