রেল স্টেশনের পানীয় জলে ই কোলাই! পেটে গেলে কী কী বিপদ হতে পারে?

রেল স্টেশনে তৃষ্ণা মেটাতে পানীয় জল খান বহু যাত্রী। কেউ আবার স্টেশনের জল বোতলে ভরেও নিয়ে যান। কিন্তু সেই পানীয় জলেই যদি ই কোলাই (E. coli) ব্যাক্টেরিয়া থাকে, তা হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (ক্যাগ)-এর রিপোর্টে দেশের কয়েকটি রেল স্টেশনের পানীয় জলের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চিন্তা তৈরি হয়েছে।

পানীয় জলে ই কোলাই কতটা বিপজ্জনক?

ই কোলাই সাধারণত মানুষের অন্ত্রে থাকে এবং এর বেশির ভাগ প্রজাতি ক্ষতিকর নয়। কিন্তু ই কোলাইয়ের কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতি শরীরে ঢুকলে সংক্রমণ ও খাদ্যবাহিত অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
পানীয় জলে ই কোলাইয়ের উপস্থিতি থাকলে তা মলদূষণ বা অপরিষ্কার জল সরবরাহ ব্যবস্থার ইঙ্গিত হতে পারে। অর্থাৎ জলের উৎস, পাইপলাইন, সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা পরিশোধনের প্রক্রিয়ায় কোথাও দূষণ ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

এমন জল পান করলে কী হতে পারে?

দূষিত জলে থাকা রোগজীবাণু শরীরে ঢুকে ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমি, বমি বমি ভাব এবং জ্বরের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিছু ধরনের ই কোলাই সংক্রমণে রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়াও হতে পারে।
বিশেষ করে বিষাক্ত শিগা টক্সিন তৈরি করা ই কোলাইয়ের কিছু প্রজাতি গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে। সংক্রমণ বেশি হলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যা শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যক্তিদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

শুধু ই কোলাই নয়, আরও জীবাণুর আশঙ্কা
জলে ই কোলাই পাওয়া গেলে সেটি দূষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এমন জল অপরিষ্কার হলে অন্যান্য রোগজীবাণু থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সালমোনেলা বা ক্যাম্পাইলোব্যাক্টরের মতো ব্যাক্টেরিয়া অন্ত্রের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। দূষিত পানীয় জলের মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ-এর মতো ভাইরাসও ছড়াতে পারে।
তবে কোনও নির্দিষ্ট জলে ই কোলাই পাওয়া গেলেই সেখানে টাইফয়েড, কলেরা বা হেপাটাইটিস এ-র জীবাণু অবশ্যই রয়েছে—এমনটা বলা যায় না। এর জন্য আলাদা করে জীবাণু পরীক্ষা প্রয়োজন।

কিডনির উপরেও পড়তে পারে প্রভাব
কিছু বিশেষ ধরনের ই কোলাই সংক্রমণে শরীরে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। শিগা টক্সিন উৎপাদনকারী ই কোলাইয়ের ক্ষেত্রে বিরল হলেও হিমোলাইটিক ইউরেমিক সিনড্রোম (HUS) হতে পারে। এতে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যেতে পারে এবং কিডনির কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
তাই দূষিত জল পান করার পরে তীব্র ডায়রিয়া, রক্তমিশ্রিত পায়খানা, প্রচণ্ড পেটব্যথা, বারবার বমি, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্টেশনের জল খাওয়ার আগে সতর্কতা
রেল স্টেশন বা অন্য কোনও পাবলিক জায়গায় পানীয় জল খাওয়ার ক্ষেত্রে উৎস ও পরিশোধন ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো। সন্দেহ থাকলে সিল করা নিরাপদ পানীয় জল সঙ্গে রাখা বা বিশ্বস্ত উৎসের জল পান করাই তুলনামূলক নিরাপদ।

গ্লাস তুলতে গিয়ে হাত কাঁপছে? দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না, হতে পারে এসেনশিয়াল ট্রেমরের লক্ষণ

পানীয় জলের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শুধু জলের কুলার নয়, জলের উৎস, পাইপলাইন, স্টোরেজ ট্যাঙ্ক এবং পরিশোধন ব্যবস্থাও নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। কারণ পরিষ্কার দেখালেই কোনও জল জীবাণুমুক্ত—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক