গ্লাসে জল ঢালতে গিয়ে হঠাৎ হাত কেঁপে উঠল। ফোনে টাইপ করতে গিয়ে আঙুল বার বার ভুল জায়গায় চলে যাচ্ছে। কলম ধরলে হাতের লেখা কাঁপছে। এমন লক্ষণকে অনেকেই ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা কিংবা বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু বার বার এমন হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। কারণ, এর নেপথ্যে থাকতে পারে একটি স্নায়বিক সমস্যা—এসেনশিয়াল ট্রেমর (Essential Tremor)।
এসেনশিয়াল ট্রেমর কী?
এসেনশিয়াল ট্রেমর হল এমন একটি স্নায়বিক সমস্যা, যেখানে শরীরের কোনও অংশ অনিয়ন্ত্রিত ভাবে কাঁপতে থাকে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় হাত ও বাহু। তবে কাঁধ, মাথা, ঘাড়, কণ্ঠস্বর কিংবা শরীরের অন্য অংশেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এই সমস্যায় সাধারণত পেশি ব্যবহার করার সময় কাঁপুনি বেশি বোঝা যায়। যেমন—গ্লাস ধরা, লিখতে বসা, ফোনে টাইপ করা কিংবা কোনও জিনিস নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার সময় হাত কাঁপতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
এসেনশিয়াল ট্রেমরের লক্ষণ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে পারে। সাধারণ কয়েকটি উপসর্গ হল—
*হাত ও আঙুলে কাঁপুনি
*মাথা বা ঘাড় কাঁপা
*কণ্ঠস্বরে কাঁপুনি বা পরিবর্তন
*মুখের পেশিতে কাঁপুনি
*কোনও কাজ করার সময় হাত বেশি কাঁপা
*সময়ের সঙ্গে হাঁটাচলায় ভারসাম্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে
শুরুর দিকে উপসর্গ খুব সামান্য থাকায় অনেকেই তা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে কাঁপুনির তীব্রতা বাড়তে পারে এবং দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
পারকিনসন্সের সঙ্গে কি একই রোগ?
না। এসেনশিয়াল ট্রেমর এবং পারকিনসন্স এক নয়। তবে দু’টির কিছু উপসর্গ কাছাকাছি হওয়ায় অনেক সময় মানুষ গুলিয়ে ফেলেন।
পারকিনসন্সে শরীরের কোনও অংশ বিশ্রামে থাকলেও কাঁপুনি দেখা দিতে পারে। অন্য দিকে, এসেনশিয়াল ট্রেমরে সাধারণত হাত বা অন্য পেশি কাজে লাগানোর সময় কাঁপুনি বেশি প্রকাশ পায়। তাই শুধু হাত কাঁপছে বলেই নিজে থেকে কোনও রোগের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
কেন হয় এসেনশিয়াল ট্রেমর?
এই রোগের সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে শরীরের নড়াচড়া ও পেশির সমন্বয় নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের অংশগুলির মধ্যে যোগাযোগের সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মনে করা হয়।
জিনগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গে এসেনশিয়াল ট্রেমরের সম্পর্ক পাওয়া যায়। পরিবারের কারও এই সমস্যা থাকলে অন্য সদস্যের মধ্যেও ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কোন কোন কারণে কাঁপুনি বেড়ে যেতে পারে?
কাঁপুনির তীব্রতা সব সময় এক রকম থাকে না। কয়েকটি বিষয় সাময়িক ভাবে উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন—
*অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ
*পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব
*অতিরিক্ত ক্লান্তি
*বেশি ক্যাফিন সেবন
*অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা
তাই হাত কাঁপার প্রবণতা থাকলে ঘুম, মানসিক চাপ এবং ক্যাফিন গ্রহণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
মাঝে মধ্যে দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি বা অতিরিক্ত ক্যাফিনের কারণে হাত কাঁপতে পারে। তবে কোনও কারণ ছাড়াই যদি বার বার হাত, মাথা বা শরীরের অন্য অংশ কাঁপে, কিংবা কাঁপুনির কারণে লেখা, খাওয়া, ফোন ব্যবহার বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ছুটির দিনে অজান্তেই কিডনির ক্ষতি করছেন? বদলে ফেলুন এই ৬ অভ্যাস
হাত কাঁপাকে সব সময় সাধারণ দুর্বলতা বলে এড়িয়ে না গিয়ে, বার বার হলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। সঠিক কারণ জানা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার পথও নির্ধারণ করা যায়।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.