Recipe: বাঙালি আর মিষ্টি— এ যেন একে অপরের পরিপূরক। উৎসব-পার্বণ, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা ঘরোয়া আনন্দের আসর, বাঙালির জীবনে মিষ্টির উপস্থিতি বরাবরই বিশেষ। ভাইফোঁটা, নববর্ষ, বিজয়া দশমী থেকে রাখিবন্ধন— যে কোনও শুভ দিনেই মিষ্টি দিয়ে প্রিয়জনের মুখ মিষ্টি করার রীতি রয়েছে।
রাখির দিনে ভাইয়ের হাতে রাখি বেঁধে সাজিয়ে দিতে পারেন হরেক রকম ঘরোয়া মিষ্টির থালা। রসে ভরা চমচম, মুচমুচে গজা, নরম সন্দেশ কিংবা ক্ষীরের রাবড়ির পাশাপাশি জায়গা করে নিতে পারে মনোহরা ও আধুনিক ফিউশন মিষ্টিও। জেনে নিন, ঘরেই কী ভাবে বানাবেন কয়েকটি জনপ্রিয় মিষ্টি।
রসালো চমচম
বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় মিষ্টিগুলির মধ্যে অন্যতম চমচম। টাটকা ছানা থেকে তৈরি এই মিষ্টির ভিতরটা থাকে রসে ভরা, আর উপরে ছড়ানো থাকে ক্ষীরের গুঁড়ো ও বাদাম-পেস্তাকুচি।
প্রথমে গরম ছানার জল ভাল করে ঝরিয়ে নিন। তাতে অল্প ময়দা ও অ্যারারুট মিশিয়ে নরম করে মেখে ডিম্বাকৃতি দিন। তার পরে চিনির ঘন রসে ডুবিয়ে ফুটিয়ে নিন। হালকা সোনালি বা গোলাপি রং এলে রস থেকে তুলে উপরে ক্ষীরের গুঁড়ো ও পেস্তাকুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
মুচমুচে গজা
অনেক মিষ্টি বেশিদিন ভাল থাকে না, তবে গজা আগে থেকে বানিয়ে রাখলেও সহজেই পরিবেশন করা যায়। বাইরের অংশ মুচমুচে হলেও ভিতরে থাকে মিষ্টি রসের স্বাদ।
ময়দার সঙ্গে ঘি, অল্প বেকিং সোডা দিয়ে ভাল করে মেখে প্রায় ১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। তার পরে লেচি বেলে কয়েকটি স্তর তৈরি করে ভাঁজ করুন। চৌকো বা আয়তাকার করে কেটে সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। শেষে গরম চিনির সিরায় ডুবিয়ে রাখলেই তৈরি মুচমুচে গজা।
বাদাম-পেস্তা কালাকাঁদ
উত্তর ভারতের জনপ্রিয় কলাকন্দ বাঙালির ঘরেও কালাকাঁদ নামে বেশ পরিচিত। ছানা ও ঘন দুধের স্বাদে তৈরি এই মিষ্টিতে বাদাম-পেস্তা যোগ করলে স্বাদ আরও বাড়ে।
দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে তাতে লেবুর রস দিয়ে ছানা কাটিয়ে নিন। এর সঙ্গে চিনি মিশিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকুন। মিশ্রণ কিছুটা শুকিয়ে এলে অল্প ঘি ও এলাচগুঁড়ো যোগ করুন। ঘি মাখানো পাত্রে ঢেলে ঠান্ডা হতে দিন। পরে টুকরো করে কেটে কেশর ও কাঠবাদামকুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
পুরভরা লবঙ্গলতিকা
বাঙালির পুরনো দিনের জনপ্রিয় মিষ্টি লবঙ্গলতিকা। ময়দার খোলসের মধ্যে ক্ষীর বা ছানার পুর ভরে চারদিক থেকে মুড়ে দেওয়া হয়। উপরে একটি গোটা লবঙ্গ গেঁথে দেওয়াই এই মিষ্টির বিশেষত্ব।
ময়দার সঙ্গে ঘি বা সাদা তেল এবং সামান্য নুন দিয়ে ময়ান তৈরি করুন। অন্য দিকে দুধ ঘন করে জ্বাল দিয়ে গুঁড়োদুধ মিশিয়ে ক্ষীরের মতো পুর বানান। ময়দার ছোট লেচি বেলে মাঝখানে পুর দিয়ে চার কোণা ভাঁজ করে একটি লবঙ্গ গেঁথে দিন। ডুবো তেলে ভেজে চিনির সিরায় ডুবিয়ে নিলেই তৈরি লবঙ্গলতিকা।
সাদামাঠা সন্দেশ
বাঙালি উৎসবের মিষ্টির থালায় সন্দেশ না থাকলে যেন কিছু একটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ছানা, চিনি বা গুড়ের সহজ মেলবন্ধন থেকেই তৈরি হয় এই চিরপরিচিত মিষ্টি।
দুধ কেটে তৈরি ছানার জল ভাল করে ঝরিয়ে নিন। ছানার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে ভাল করে মাখুন। খোয়া ক্ষীর গুঁড়ো করে তার সঙ্গে পেস্তা ও কাঠবাদামকুচি মেশান। কম আঁচে নাড়াচাড়া করে মিশ্রণটি কিছুটা শুকিয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। পরে নিজের পছন্দমতো আকারে গড়ে নিলেই তৈরি ঘরোয়া সন্দেশ।
ক্ষীরের রাবড়ি
ঘন দুধ ও সরের একের পর এক স্তর থেকেই তৈরি হয় সুস্বাদু রাবড়ি। এই মিষ্টি বানানোর মূল কৌশল হল ধীরে ধীরে দুধ জ্বাল দেওয়া।
দুধ ফুটতে শুরু করলে উপরে জমা সর আলতো করে পাত্রের গায়ে লাগিয়ে রাখুন। এ ভাবে বারবার সর জমাতে থাকুন এবং দুধ ধীরে ধীরে ঘন হতে দিন। শেষে চিনি ও এলাচগুঁড়ো মিশিয়ে দুধ আরও ঘন করুন। পাত্রের গায়ে জমে থাকা সরের স্তরগুলি দুধে মিশিয়ে উপর থেকে পেস্তা ও বাদামকুচি ছড়িয়ে দিন।
মনের টানে মনোহরা
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বিখ্যাত মিষ্টি মনোহরা নামেই যেন লুকিয়ে রয়েছে তার পরিচয়— যে মিষ্টি মন হরণ করে নেয়! এই মিষ্টির জন্ম নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত থাকলেও এর জনপ্রিয়তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
ছানা, চিনি, এলাচ, জায়ফল ও পেস্তার গুঁড়ো মিশিয়ে প্রথমে মিশ্রণটি জ্বাল দিয়ে পাক তৈরি করুন। পরে ছোট ছোট গোল্লা বানিয়ে চিনির রসে ডুবিয়ে নিলেই তৈরি হবে সুস্বাদু মনোহরা।
আধুনিক স্বাদে চকোলেট ট্রাফল সন্দেশ
ঐতিহ্যবাহী বাঙালি মিষ্টির পাশাপাশি এখন ফিউশন মিষ্টির জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। ছানার সঙ্গে চকোলেটের মেলবন্ধনে তৈরি চকোলেট ট্রাফল সন্দেশ রাখির মিষ্টির থালায় আনতে পারে নতুন চমক।
ছানা ও চিনি সামান্য পাক দিয়ে তাতে ডার্ক চকোলেট সস বা কোকো পাউডার মিশিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে ছোট গোল্লার আকার দিন। তার পরে গলানো ডার্ক চকোলেটে ডুবিয়ে উপরে কাঠবাদাম, পেস্তা, আখরোটকুচি ও চকোলেট চিপস ছড়িয়ে দিন।
রাখির মিষ্টির থালায় থাকুক ঘরোয়া ভালোবাসা
রাখিবন্ধন শুধু রাখি বাঁধার উৎসব নয়, ভাই-বোনের সম্পর্ক উদ্যাপনেরও বিশেষ দিন। তাই এ বছর দোকান থেকে মিষ্টি কেনার পাশাপাশি সময় থাকলে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন ভাইয়ের পছন্দের কয়েক রকম মিষ্টি। রসে ভরা চমচম, মুচমুচে গজা, নরম সন্দেশ, পুরভরা লবঙ্গলতিকা কিংবা আধুনিক চকোলেট ট্রাফল সন্দেশ— এক থালাতেই থাকুক ঐতিহ্য আর নতুন স্বাদের সুন্দর মেলবন্ধন।
Recipe: বেঁচে যাওয়া আলুভাতে ফেলবেন না! তৈরি করুন মুখরোচক কাজ়ুন পট্যাটো, স্লাইডার ও মুচমুচে কাটলেট
তবে মিষ্টি তৈরির সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। তৈরি মিষ্টি উপযুক্তভাবে সংরক্ষণ করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে খান।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.