বলিউডের স্মৃতির ভাঁড়ার থেকে যেন হঠাৎই ফিরে এল এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়। দীর্ঘ ২৫ বছর পর অবশেষে দর্শকদের সামনে মুক্তি পেল ইরফান খান ও বিদ্যা বালান অভিনীত প্রথম ছবি ‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’। প্রয়াত অভিনেতা ইরফান খানের জন্মদিন উপলক্ষে ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে বহু প্রতীক্ষিত এই সিনেমা। ফলে অনুরাগীদের কাছে দিনটি হয়ে উঠেছে আবেগ ও নস্টালজিয়ায় ভরা এক বিশেষ মুহূর্ত।
ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন সার্থক দাশগুপ্ত। তখন তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নতুন পরিচালক। চলচ্চিত্র জগতের কোনও অভিজ্ঞতা বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শুধুমাত্র স্বপ্ন ও আবেগকে সম্বল করেই এই ছবি নির্মাণে হাত দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ইরফান খান ও বিদ্যা বালানও কেরিয়ারের একেবারে শুরুর পর্যায়ে ছিলেন। পরবর্তীতে দু’জনেই ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন।
তবে ছবির কাজ শেষ হলেও নানা কারণে মুক্তি আটকে যায়। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে শোনা যায়, ছবির মূল ফুটেজ হারিয়ে যাওয়াতেই থমকে যায় মুক্তির সম্ভাবনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিচালকও প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি আচমকাই ছবিটির পুরনো ভিএইচএস কপি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সেই ফুটেজ নতুন করে সংরক্ষণ ও সম্পাদনার পর অবশেষে মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সার্থক দাশগুপ্ত এক সাক্ষাৎকারে জানান, এই ছবির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত আবেগ গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। কোনও অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধুমাত্র আন্তরিকতা ও স্বপ্ন নিয়ে তিনি ছবিটি তৈরি করেছিলেন। এত বছর পর সেটি দর্শকদের সামনে আনতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত। বিশেষ করে ইরফান খানকে উৎসর্গ করে ছবিটি মুক্তি দিতে পারায় তাঁর অনুভূতি আরও গভীর হয়েছে।
‘দ্য লাস্ট টেন্যান্ট’-এ ইরফান খান ও বিদ্যা বালানের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন অনু খান্ডেলওয়াল, সৌরভ আগরওয়াল, সতীশ কালরা এবং আনন্দ মিশ্র। বহু বছর আড়ালে থাকার পর ছবিটির মুক্তি যেন শুধুই একটি সিনেমার প্রত্যাবর্তন নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া এক সময়কে আবার ফিরে পাওয়ার অনুভূতি। বিশেষ করে তরুণ ইরফান খানকে আবার পর্দায় দেখে আবেগে ভেসেছেন তাঁর অসংখ্য অনুরাগী।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.