বৃষ্টি-ধসে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড, মৃত ৭! বন্ধ ১৭২ রাস্তা, বন্যার আশঙ্কা উত্তরপ্রদেশে, ঝাড়খণ্ডের ১০ জেলায় হড়পা বানের সতর্কতা

টানা ভারী বৃষ্টি, ধস এবং হড়পা বানে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা। একের পর এক রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তরও ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসনের তরফে একাধিক এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুর্যোগে উত্তরাখণ্ডে অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর সূত্রে খবর, বৃষ্টি ও ধসের কারণে উত্তরাখণ্ডে মোট ১৭২টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে পিথোরাগড়, নৈনীতাল এবং বাগেশ্বরের দু’টি হাইওয়েও রয়েছে। বাগেশ্বরের ১০৯ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশ ধসে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। টিহরীতে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন যানবাহন চালকেরা।

রাজ্য আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, অলমোড়া, বাগেশ্বর, টিহরী, নৈনীতাল, উধম সিংহ নগর এবং পৌড়ীতে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে গোলা নদীতে ২৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। ফলে হলদ্বানী, উধম সিংহ নগর, পুলভট্টা, শান্তিপুরী এবং সূর্যনগরে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খটীমার বনগাঁওয়ে খকরা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। নৈনীতালের শিপ্রা ও কোশী নদীর জলও বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।

আরও পড়ুন,
বৃষ্টি, ধস ও হড়পা বানে বিপর্যস্ত হিমাচল, ৬৪ দিনে মৃত ২৫৯! এখনও বন্ধ ১৫০ সড়ক

দুর্যোগে প্রাণহানিও হয়েছে একাধিক জায়গায়। পৌড়ীর কোটদ্বারে নদীর জলের প্রবল স্রোতে ভেসে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলা ও তাঁর দেড় বছরের কন্যার। অলমোড়ার হবালবাগে বাড়ি ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে দুই মহিলা এবং এক শিশুর। ধারের টুনি এলাকায় ধসের নীচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই নেপালি শ্রমিক।ভারী বৃষ্টির জেরে নৈনীতাল, চম্পাবত, উধম সিংহ নগর এবং পিথোরাগড়ে বুধবার পর্যন্ত স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যার আশঙ্কা উত্তরপ্রদেশেও
উত্তরাখণ্ডের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক উত্তরপ্রদেশেও। গঙ্গার জলস্তর ক্রমশ বাড়ায় নদী সংলগ্ন বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

বারাণসীতে ৮৪টি ঘাট ইতিমধ্যেই জলের তলায় চলে গিয়েছে। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে গঙ্গা। চিত্রকূট ও মন্দাকিনী নদীর জলও ফুলেফেঁপে উঠেছে। রামঘাট, নির্মোহী আখড়া-সহ একাধিক এলাকা জলমগ্ন। রামঘাট ও নয়াগাঁওয়ের মধ্যে সংযোগকারী সেতুটিও জলের প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশের ২০টিরও বেশি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রতাপগড়ে ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সোনভদ্রে ১৪০ মিলিমিটার, কানপুর শহরে ১২৯ মিলিমিটার, বান্দায় ১১০ মিলিমিটার, আজ়মগড়ে ১০১ মিলিমিটার এবং গাজীপুরে ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চিত্রকূট, বান্দা, প্রয়াগরাজ, ফতেহপুর, সোনভদ্র, মির্জাপুর, চন্দৌলী, বলিয়া, কন্নৌজ, কানপুর দেহাত, রায়বরেলী এবং কাসগঞ্জে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডের ১০ জেলায় হড়পা বানের সতর্কতা
অন্য দিকে, ঝাড়খণ্ডেও দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়ছে। রাজ্যের ১০ জেলায় হড়পা বানের পূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন। গঢ়ওয়া, পলামু, লাতেহার, লোহরদগা, গুমলা, সরাইকেলা-খরসাওয়ান, পূর্ব সিংভূম, সিমডেগা, খুঁটি এবং পশ্চিম সিংভূমে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গঢ়ওয়া, পলামু, সিমডেগা এবং পশ্চিম সিংভূমে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে পাহাড়ি ও নদীসংলগ্ন এলাকাগুলিতে প্রশাসনের তরফে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

উত্তরাখণ্ডে ধস ও হড়পা বান, উত্তরপ্রদেশে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং ঝাড়খণ্ডে হড়পা বানের পূর্বাভাস—সব মিলিয়ে উত্তর ও মধ্য ভারতের একাধিক রাজ্যে বর্ষার দুর্যোগ ঘিরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক