উলটো রথের আর বেশি দেরি নেই। এই শুভ তিথিতেই মাসির বাড়ি থেকে রথে চড়ে নিজের মন্দিরে ফিরে আসেন শ্রীজগন্নাথদেব। অনেক ভক্তেরই ইচ্ছা থাকে পুরীতে গিয়ে এই বিশেষ উৎসবের সাক্ষী থাকার। তবে কোনও কারণে তা সম্ভব না হলেও মন খারাপের কারণ নেই। বাড়িতেই ভক্তিভরে জগন্নাথদেবের পছন্দের সাত্ত্বিক ভোগ নিবেদন করে তাঁর আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
জগন্নাথদেবের কাছে ভোগ নিবেদন মানে শুধু সুস্বাদু রান্না নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পবিত্রতা, আন্তরিকতা এবং ভক্তিভাব। উলটো রথ উপলক্ষে বাড়িতে সহজেই তৈরি করতে পারেন তাঁর প্রিয় এই পাঁচটি ভোগ।
১. খাজা
জগন্নাথদেবের অন্যতম প্রিয় প্রসাদ হল খাজা। ময়দা, ঘি এবং চিনির রস দিয়ে তৈরি এই মিষ্টি বাইরে খাস্তা ও ভেতরে নরম। রথযাত্রা এবং অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠানে খাজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
২. কণিকা
ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ভাত কণিকা ভোগের অন্যতম জনপ্রিয় পদ। চাল, ঘি, গুড়, এলাচ, লবঙ্গ, কাজু ও কিশমিশ দিয়ে তৈরি এই সুগন্ধি ভাত স্বাদে যেমন অনন্য, তেমনই ভোগ হিসেবেও অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
৩. পোড়া পিঠা
চালের গুঁড়ো, নারকেল এবং গুড় দিয়ে তৈরি পোড়া পিঠা ধীরে ধীরে সেঁকে বা বেক করে বানানো হয়। হালকা ধোঁয়াটে সুবাস ও নরম স্বাদের এই পিঠা জগন্নাথদেবের ভোগ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
৪. নাড়িয়া পাচাড়ি
নাড়িয়া পাচাড়ি হল নারকেলের তৈরি একটি সুস্বাদু চাটনি। কোরানো নারকেল, দই, কাঁচালঙ্কা এবং হালকা মশলার সঙ্গে অনেক সময় সর্ষে, আদা ও কারিপাতার ফোড়ন দেওয়া হয়। কণিকা বা অন্নজাতীয় ভোগের সঙ্গে এই পদ নিবেদন করা হয়।
৫. ঘিয়া অন্ন
ঘি মেশানো সুগন্ধি ভাত বা ঘিয়া অন্ন জগন্নাথদেবের বিখ্যাত ছাপ্পান্ন ভোগের অন্যতম। এটি সহজপাচ্য ও সুস্বাদু। অনেক সময় এতে ডাল বা সবজিও যোগ করা হয়। সরল হলেও এই ভোগের ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
Recipe: চপ-মুড়ির বদলে বানান শ্যামা চাল ও কাঁচকলার টিক্কি, বৃষ্টির দিনের চায়ের আড্ডায় জমে যাবে স্বাদ
ভোগ নিবেদনের আসল তাৎপর্য
উলটো রথের দিনে ভক্তিভরে জগন্নাথদেবকে ভোগ নিবেদন করলে তা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আত্মসমর্পণের প্রকাশ। তাই পুরীতে উপস্থিত থাকা সম্ভব না হলেও, ঘরের পুজোর আসনেই আন্তরিকতার সঙ্গে এই ভোগ নিবেদন করে প্রার্থনা করলে জগন্নাথদেবের কৃপা ও আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.