৯০ শতাংশের বেশি ভারতীয়ের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল! শুধু খাবার নয়, দায়ী আরও একাধিক কারণ

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এখন ভারতের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য-উদ্বেগ। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বা অন্যান্য লিপিডের মাত্রা স্বাভাবিকের বাইরে। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনই কোনও না কোনও ধরনের ডিসলিপিডেমিয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
প্রায় ২৩,৬৬৫ জনের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তেল-ঝাল বা অস্বাস্থ্যকর খাবার নয়, জীবনযাত্রার নানা অভ্যাস এবং কিছু শারীরিক সমস্যাও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডিসলিপিডেমিয়া কী?

ডিসলিপিডেমিয়া এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যায়, অন্যদিকে ভাল কোলেস্টেরল (HDL) কমে যায়। এর ফলে রক্তনালির গায়ে চর্বি জমতে শুরু করে, যা রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে হৃদ্‌রোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

কেন বাড়ছে কোলেস্টেরল?

১. কায়িক পরিশ্রমের অভাব
দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ করলে শরীরে লিপোপ্রোটিন লাইপেজ নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসেচকের কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে ট্রাইগ্লিসারাইড ঠিকমতো ভাঙতে পারে না এবং রক্তে চর্বি জমতে থাকে।

২. ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স
রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এই অবস্থাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। এর ফলে শুধু রক্তে শর্করাই বাড়ে না, পেটের মেদও জমতে থাকে এবং খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়।

৩. উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপের কারণে রক্তনালির ক্ষতি হতে থাকে। এতে রক্তনালির দেওয়ালে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে, যা ডিসলিপিডেমিয়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

৪. হাইপোথাইরয়েডিজম
থাইরয়েড হরমোন কম নিঃসৃত হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। তখন লিভার রক্ত থেকে অতিরিক্ত খারাপ কোলেস্টেরল অপসারণ করতে পারে না। ফলে রক্তে LDL-এর মাত্রা বাড়তে থাকে এবং লিভারের উপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

কখন কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ বছর বয়স পার হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানো উচিত। এছাড়া পরিবারে যদি উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও আগে থেকেই পরীক্ষা শুরু করা প্রয়োজন।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?

*প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটা বা শরীরচর্চা করুন।
*দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ না করে মাঝেমধ্যে উঠে হাঁটুন।
*অতিরিক্ত তেল, ভাজাভুজি, প্রক্রিয়াজাত ও চিনিযুক্ত খাবার কম খান।
*ওজন, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
*থাইরয়েড বা ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
*নির্দিষ্ট সময় অন্তর লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করিয়ে কোলেস্টেরলের মাত্রা পর্যবেক্ষণে রাখুন।

মা হওয়ার আগে কেন জরুরি জিনগত পরীক্ষা? আইসিএমআরের পরামর্শে প্রি-প্রেগন্যান্সি স্ক্রিনিংয়ের সম্পূর্ণ তালিকা

কোলেস্টেরল বৃদ্ধিকে শুধু খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা বলে ভাবলে ভুল হবে। আধুনিক জীবনযাত্রা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং থাইরয়েডের মতো সমস্যাও এর বড় কারণ। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপনই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক