বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয়(Vivek Oberoi) শুধু অভিনয়ের জন্যই পরিচিত নন, ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তবে তাঁর এই পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। কর্মজীবনের কঠিন সময়, সিনেমায় কাজের সুযোগ কমে যাওয়া এবং ব্যবসায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। আর সেই সময়েই নিজেকে ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে না দেখে পরিস্থিতি বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেতা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও কঠিন সময় থেকে পাওয়া শিক্ষা নিয়ে কথা বলেছেন বিবেক (Vivek Oberoi) । তাঁর কথায়, সাফল্য কিংবা ব্যর্থতা—কোনওটাই চিরস্থায়ী নয়। বরং মানুষের উদ্দেশ্য, মূল্যবোধ এবং কঠিন পরিস্থিতিতে নেওয়া সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ।
‘ভুক্তভোগী নয়, বিজয়ী হতে হবে’
জীবনে যখন একের পর এক সুযোগের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখন হতাশ হয়ে বসে থাকার পরিবর্তে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন বিবেক। তিনি মনে করেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষের সামনে মূলত দুটি পথ থাকে—হাল ছেড়ে দেওয়া অথবা নিজেকে আরও শক্তিশালী করে নতুন পথ খুঁজে নেওয়া।
বিবেকের কথায়, তিনি কখনও নিজেকে পরিস্থিতির শিকার হিসেবে দেখতে চাননি। বরং নিজের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, একটি পথ বন্ধ হয়ে গেলে অন্য পথ খুঁজে বের করার মতো মেধা, পরিশ্রম এবং সামর্থ্য তাঁর রয়েছে।
ব্যবসায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসাতেও যুক্ত রয়েছেন বিবেক। তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রাতেও এসেছে বড় ধাক্কা। তাঁর পার্টনার অঙ্কুর আগরওয়ালের সঙ্গে একটি উদ্যোগে ১০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির মুখে পড়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তবে এত বড় আর্থিক ক্ষতির পরেও অঙ্কুর হাল ছাড়েননি। বরং একসঙ্গে নতুন কিছু তৈরি করার কথা বলেছিলেন। বিবেকের মতে, এই মানসিকতাই একজন প্রকৃত উদ্যোক্তা ও নেতার পরিচয় দেয়।
‘বস’ আর ‘নেতার’ মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
বিবেকের কাছে নেতৃত্বের অর্থ শুধু অন্যদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া নয়। তাঁর মতে, একজন প্রকৃত নেতা তাঁর সঙ্গে থাকা মানুষদেরও যাত্রার অংশীদার করে তোলেন।
তিনি মনে করেন, এখানেই একজন বসের সঙ্গে একজন নেতার সবচেয়ে বড় পার্থক্য। বস যেখানে শুধুমাত্র কাজ সম্পন্ন করার দিকে নজর দেন, একজন নেতা দলের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যান এবং তাঁদের অংশীদার হিসেবে অনুভব করান।
সঙ্কটের সময়েও কর্মী ছাঁটাই করেননি
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপ সামলাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটলেও বিবেকের সংস্থার সিদ্ধান্ত ছিল অন্যরকম। তিনি জানান, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁদের কোনও কর্মীকেই ছাঁটাই না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বিবেকের মতে, ব্যবসায়িক সঙ্কটের প্রভাব শুধু একজন ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের উপর পড়ে না। এর সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক কর্মী এবং তাঁদের পরিবারও প্রভাবিত হন। তাই নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা কঠিন সময়েই হয়।
ছোটবেলার সাফল্যও হতে পারে বিভ্রান্তিকর
কর্মজীবনের শুরুতেই সাফল্য এবং জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন বিবেক। তবে পরবর্তীতে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, অল্প বয়সের সাফল্য কখনও কখনও মানুষকে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
এই জায়গায় তাঁর মায়ের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, ছোটবেলায় পাওয়া প্রশংসা ও হাততালির প্রভাব অনেকদিন থেকে যায়। কিন্তু যখন সেই হাততালি থেমে যায় এবং জীবনে প্রতিকূলতা আসে, তখন মানুষকে নতুন করে নিজেকে চিনতে হয়।
সন্তানদেরও দিতে চান এই শিক্ষা
নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রেও সাফল্য ও ব্যর্থতাকে একই দৃষ্টিতে দেখার শিক্ষা দিতে চান বিবেক। তাঁর মতে, জীবনের কোনও একটি সাফল্যকে আঁকড়ে থাকা যেমন ঠিক নয়, তেমনই ব্যর্থতার মধ্যেও ডুবে থাকা উচিত নয়।
বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা উল্লেখ করে বিবেকের বক্তব্যের সারমর্ম—সাফল্যে অহংকারী হওয়া যাবে না, আবার ব্যর্থতায় ভেঙেও পড়া যাবে না। নিজের কাজ করে যেতে হবে, ভালো সময়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে এবং অন্যের পরামর্শ শুনলেও শেষ পর্যন্ত নিজের পথ নিজেকেই বেছে নিতে হবে।
বিবেক ওবেরয়ের জীবনের এই অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—পেশাগত সাফল্য বা আর্থিক ক্ষতি কোনওটাই শেষ কথা নয়। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, নিজের মানসিকতা বদলে নতুন সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করাই তাঁর কাছে এগিয়ে যাওয়ার মূল চাবিকাঠি।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.