নিজস্ব প্রতিবেদন: স্বাস্থ্য, চলচ্চিত্র-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতির অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। এবার সেই একই অভিযোগের ইঙ্গিত মিলল সাহিত্যজগত নিয়েও। বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী(Joy Goswami)-র বক্তব্যে উঠে এল এমনই বিস্ফোরক দাবি। তাঁর কথায়, সাহিত্যক্ষেত্রেও একদিন হুমকি প্রথার প্রমাণ সামনে আসবে।
দীর্ঘদিন ধরেই মুদ্রণ জগৎ থেকে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছেন জয় গোস্বামী। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার সম্পূর্ণ কারণ অবশ্য এখনও প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সত্য সামনে আসবে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন কবি।
জয় গোস্বামী(Joy Goswami)-র কথায়, প্রায় তিন বছর আগে তিনি মুদ্রণ জগৎ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। তাঁর বক্তব্য, “কেন আমাকে প্রত্যাহার করতে হল সেটা কেউ ভেবে দেখেছেন? একদিনে আমি সব ঘটনা বলব না। সময় যত এগবে তখন একটু একটু করে বোঝা যাবে কেন আমি অতদিন আগেই সরে এসেছিলাম।”
‘সব কথা বলার একটা সময় আছে’
নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সময়ের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেছেন জয় গোস্বামী। তাঁর মতে, কোনও ঘটনা প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে সঠিক সময় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিকেটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন ব্যাটার যেমন প্রতিটি বল খেলেন না, বরং কোন বল ছাড়তে হবে এবং কোন বলে শট খেলতে হবে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যেও সেই ‘টাইমিং’-এর বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
সাহিত্যজগতেও ছিল ‘হুমকি প্রথা’, দাবি জয়ের
তৃণমূল জমানায় কথিত ‘থ্রেট কালচার’-এর প্রতিবাদ কেন তিনি প্রকাশ্যে করেননি—এই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন জয় গোস্বামী। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে আরও অনেক বিষয় সামনে আসবে এবং তখন বোঝা যাবে কেন তিনি নিজের কাঁধে দোষ নিয়ে সরে এসেছিলেন।
জয় বলেন, তাঁর কবিতা লেখা হয়নি, কবিতা লিখতে পারেননি। সেই কারণেই কবিতা লেখা নতুন করে শেখার চেষ্টা করবেন বলে মুদ্রণ জগৎ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
স্বাস্থ্য ও চলচ্চিত্রের মতো ক্ষেত্রের পাশাপাশি সাহিত্যেও হুমকি সংস্কৃতির অস্তিত্ব ছিল বলে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একদিন তার প্রমাণও সামনে আসবে।
‘প্রতিবাদ করে আয়ুক্ষয় করতে পারব না’
জয় গোস্বামীর বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ তাঁর প্রতিবাদ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে। তাঁর কথায়, এমন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজের আয়ু ক্ষয় করার মতো অবস্থায় তিনি ছিলেন না। একইসঙ্গে অল্পবয়সিদেরও রক্ষা করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে সাহিত্যজগত নিয়ে তাঁর সমস্ত বক্তব্য এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাননি জয় গোস্বামী। বরং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বিষয়গুলি সামনে আসবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সাহিত্য ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর সাহিত্যজগতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর মতো একজন প্রবীণ কবির এমন বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.