Swastika Dutta: ‘বিদ্যার লুক টেস্টের দু’দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম’, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মুখ খুললেন স্বস্তিকা দত্ত

পর্দায় বরাবরই সাবলীল ও পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন স্বস্তিকা দত্ত (Swastika Dutta)। তবে ক্যামেরার আড়ালে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক লড়াই কতটা কঠিন, এবার তা নিয়েই খোলামেলা কথা বললেন অভিনেত্রী। এক পডকাস্টে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য, প্যানিক অ্যাটাক, অ্যানজাইটি, ঋতুচক্রজনিত মানসিক অস্থিরতা থেকে শুরু করে অতীতে নেশা করার অভিজ্ঞতা— একাধিক বিষয় নিয়ে অকপট স্বস্তিকা।

‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’-র লুক টেস্টের আগে হাসপাতালে
অভিনেত্রী জানান, ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’-র লুক টেস্টের ঠিক দু’দিন আগে তীব্র প্যানিক অ্যাটাকের কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। তাঁর কথায়, পর্দায় যে স্বস্তিকাকে দর্শক দেখেন, তিনি অনেক বেশি গোছানো ও নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের স্বস্তিকা(Swastika Dutta) অনেক বেশি জটিল। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বস্তিকা(Swastika Dutta) বলেন, আগের প্রজন্মের মানুষদেরও মন খারাপ, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ হতো। তবে সেই সময় এসব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার প্রবণতা ছিল না। ফলে অনেক সমস্যাই নীরবে থেকে যেত।

‘অ্যানজাইটি বা ডিপ্রেশন শুধু বুক ধড়ফড়ানি নয়’
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে স্বস্তিকা মনে করেন, অ্যানজাইটি বা ডিপ্রেশনকে শুধুমাত্র সাধারণ মন খারাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, এগুলি মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা এবং এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, বোঝাপড়া ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। নিজের মানসিক লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লেখার চেষ্টাও করছেন বলে জানান অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, নার্ভাস অ্যানজাইটি তাঁর জীবনের একটি বাস্তব সমস্যা। প্রেমে মন ভাঙা বা সাময়িক মন খারাপের সঙ্গে এর কোনও তুলনা চলে না।

স্বস্তিকা আরও জানান, ঋতুচক্রের একটি নির্দিষ্ট সময় তাঁর মানসিক অস্থিরতা অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই সময় নিজেকে সামলানো তাঁর জন্য যথেষ্ট কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু ব্যক্তিগত এই লড়াইয়ের মধ্যেও পেশাগত দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তাঁর কথায়, নিজের সঙ্গে কঠিন লড়াই চললেও পরদিন সকাল ৯টার কল টাইমে তাঁকে শুটিং সেটে পৌঁছতে হয়। অর্থাৎ ব্যক্তিগত মানসিক অবস্থার সঙ্গে পেশাদার দায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখাটাও তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

অন্তর্মুখী স্বস্তিকা, মুডও বদলায় মানসিক অবস্থার সঙ্গে
নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়েও অকপট অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, অভিনেত্রী স্বস্তিকা নিজের কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ‘সেলফিশ’ এবং কঠোর হলেও ব্যক্তি স্বস্তিকা ভীষণ অন্তর্মুখী। তাঁর মুডও অনেকটাই নির্ভর করে মানসিক অবস্থার উপর। কখনও হয়তো হঠাৎ ‘রিঙ্কিয়া কে পাপা’ গানে নাচতে ইচ্ছে করে, আবার কখনও পরপর ১০ বার ‘সাইয়ারা’ দেখে কেঁদে ফেলতেও পারেন তিনি। নিজের এই বৈপরীত্যকেই যেন নিজের ব্যক্তিত্বের একটি অংশ হিসেবে দেখেন অভিনেত্রী।

অতীতে নেশা করতেন, এখন সম্পূর্ণ ত্যাগ
নিজের জীবনের আরও একটি কঠিন অধ্যায় নিয়েও কথা বলেছেন স্বস্তিকা। তিনি জানান, একসময় নেশা করলেও পরবর্তীতে সেই অভ্যাস তাঁকে তীব্র ভয় ও মানসিক চাপের মধ্যে ফেলেছিল। বর্তমানে চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী কোনও ধরনের নেশা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই নেশা ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান অভিনেত্রী।

বাবা-মায়ের কাছে এখনও ‘বাচ্চা মেয়ে’
নিজের মানসিক লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে বাবা-মায়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে। স্বস্তিকার কথায়, তাঁর পাঞ্জাবি মা যথেষ্ট বাস্তববাদী, অন্যদিকে বাঙালি বাবা তুলনামূলকভাবে বেশি আবেগপ্রবণ। তবে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের লড়াইয়ের গভীরতা বাবা-মা এখনও পুরোপুরি জানেন না। তাঁদের চোখে স্বস্তিকা আজও সেই ছোট্ট ‘বাচ্চা মেয়েটিই’। তাই পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি নিজের ভেতরে চলা লড়াইগুলো অনেকটাই নিজের মধ্যেই সামলাতে হয় তাঁকে। স্বস্তিকার এই অকপট স্বীকারোক্তি ফের একবার মনে করিয়ে দেয়— পর্দায় হাসিমুখে থাকা একজন তারকার ব্যক্তিগত জীবনও নানা অদৃশ্য মানসিক লড়াইয়ে ভরা হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার মাধ্যমে সেই নীরবতাই ভাঙার চেষ্টা করেছেন অভিনেত্রী।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক