বলিউডের ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। জনপ্রিয় পরিচালক ও অভিনেতা বিজয় আনন্দের ব্যক্তিগত জীবনও তেমনই এক বিতর্কিত অধ্যায়ের সাক্ষী। ‘গাইড’, ‘জুয়েল থিফ’, ‘তিসরি মঞ্জিল’-এর মতো কালজয়ী ছবির সঙ্গে যুক্ত এই তারকা পরিচালক ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা দেব আনন্দের ছোট ভাই। তবে তাঁর পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনও একসময় সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিল। বিশেষ করে ১৯৭৮ সালে নিজের ভাগ্নি সুষমাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত গোটা আনন্দ পরিবারে তৈরি করেছিল তীব্র বিতর্ক। ভাই বিজয়ের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি দেব আনন্দও।
বউকে ডিভোর্স, তারপর ভাগ্নিকে বিয়ে
বিজয় আনন্দের প্রথম স্ত্রী ছিলেন লাভলিন থাদানি। জানা যায়, প্রথম বিবাহবিচ্ছেদের পর বিজয়ের জীবনে আসেন সুষমা। সম্পর্কে সুষমা ছিলেন বিজয় আনন্দের বড় বোনের মেয়ে, অর্থাৎ তাঁর নিজের ভাগ্নি। বয়সের ব্যবধানও ছিল প্রায় ১৯ বছর।
সামাজিক ও পারিবারিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সম্পর্ককে মেনে নেওয়া সহজ ছিল না। আনন্দ পরিবারের সদস্যরাও এই বিয়ের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করেই শেষ পর্যন্ত সুষমাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন বিজয়।
ওশোর পরামর্শেই কি এই সিদ্ধান্ত?
বিজয় আনন্দের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পিছনে আধ্যাত্মিক গুরু ভগবান রজনীশ, যিনি ওশো নামে পরিচিত, তাঁর প্রভাব ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। জানা যায়, ১৯৭৮ সালে ‘রাম বলরাম’ ছবির শুটিং চলাকালীন সুষমাকে বিয়ে করেন বিজয় আনন্দ। সেই সময় ওশোর দর্শন ও পরামর্শের প্রতি তাঁর গভীর আস্থা ছিল বলে দাবি করা হয়। পরিবারের তীব্র আপত্তির মধ্যেও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যাননি বিজয়।
ভাইয়ের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দেব আনন্দ
বিজয় আনন্দের এই সিদ্ধান্ত তাঁর দাদা দেব আনন্দও ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি। দেব আনন্দের ব্যক্তিগত সচিব অশোক সিনহার বক্তব্য অনুযায়ী, ভাইয়ের এই সিদ্ধান্তে কিংবদন্তি অভিনেতা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছিলেন। যদিও এই ঘটনার পর দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন হয়ে যায়নি এবং তাঁদের কথাবার্তাও চলত, তবে বিজয়ের এই সিদ্ধান্ত দেব আনন্দের কাছে যথেষ্ট অস্বস্তিকর ছিল। অশোক সিনহার দাবি, সেই সময়ে বিজয় আনন্দের ওপর ওশোর প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ থেকে শুরু করে সুষমাকে বিয়ে—দুই ক্ষেত্রেই ওশোর পরামর্শ বিজয়ের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল।
কয়েক বছর পর ওশোর সঙ্গেও দূরত্ব
তবে যে আধ্যাত্মিক গুরুর পরামর্শে পরিবারকে উপেক্ষা করে বিয়ে করেছিলেন বিজয় আনন্দ, কয়েক বছর পর তাঁর সঙ্গেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিজয় আনন্দের ছেলে বৈভব আনন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তীকালে ওশো নিজের জীবন নিয়ে একটি বায়োপিক তৈরির প্রস্তাব দেন। সেই সময় থেকেই বিজয় আনন্দের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয়। বিজয়ের মনে হতে থাকে, রজনীশ ধীরে ধীরে তাঁর আধ্যাত্মিক আদর্শ থেকে সরে গিয়ে বস্তুবাদী হয়ে উঠছেন। এরপর ওশোকে চিঠি লিখে তাঁর আশ্রম ও সঙ্গ চিরতরে ত্যাগ করেন বিজয় আনন্দ।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুষমার সঙ্গেই
পরিবারের বিরোধিতা, সামাজিক বিতর্ক এবং ভাই দেব আনন্দের অসন্তোষ—কোনও কিছুই শেষ পর্যন্ত বিজয় আনন্দ ও সুষমার সম্পর্ককে ভাঙতে পারেনি। ১৯৭৮ সালে বিয়ের পর দীর্ঘদিন তাঁরা একসঙ্গে সংসার করেন। ২০০৪ সালে বিজয় আনন্দের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুষমাই ছিলেন তাঁর জীবনসঙ্গী। পরে ২০২৩ সালে প্রয়াত হন সুষমাও। বিজয় আনন্দের এই সম্পর্ক আজও বলিউডের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিগত অধ্যায়। একদিকে পরিবারের প্রবল আপত্তি, অন্যদিকে ওশোর প্রভাব—সবকিছুকে উপেক্ষা করে নেওয়া তাঁর সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ দাম্পত্য সম্পর্কে পরিণত হয়েছিল।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.