Recipe: কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ইসবগুলের ব্যবহার বহুদিনের। বিশেষ করে বয়স্কদের কাছে এটি বেশ পরিচিত একটি ঘরোয়া উপাদান। তবে শুধু হজমের সমস্যা সামলাতেই নয়, খাদ্যতালিকায় ফাইবারের পরিমাণ বাড়াতেও ইসবগুল ব্যবহার করা যেতে পারে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল, শুধু জলে গুলে খাওয়ার বদলে এটি দিয়ে তৈরি করা যায় নানা সুস্বাদু খাবারও।
স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খোঁজেন। ওট্স, ডালিয়া, কিনোয়া, জোয়ার, বাজরা, রাগির মতো খাবার তাই ডায়েটে জায়গা করে নেয়। ইসবগুলেও রয়েছে প্রচুর ফাইবার। প্রতি ১০০ গ্রাম ইসবগুলে প্রায় ৭১ থেকে ৭৮ গ্রাম পর্যন্ত ফাইবার থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
তাই একঘেয়ে ভাবে জলে গুলে না খেয়ে ইসবগুল দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন পায়েস, চকোলেট পুডিং কিংবা মজাদার রায়তা। রইল সহজ কয়েকটি রেসিপি।
ইসবগুলের পায়েস
কী কী লাগবে?
১ টেবিলচামচ ইসবগুল
অল্প দুধ
আধ লিটার দুধ
এলাচ
তেজপাতা
সামান্য ঘি
কাজুবাদাম
কিশমিশ
স্বাদমতো স্টিভিয়া বা বিকল্প মিষ্টি
কীভাবে বানাবেন?
প্রথমে অল্প দুধের সঙ্গে ইসবগুল মিশিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে দিন। অন্য দিকে আধ লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে কিছুটা ঘন করে নিন। দুধে এলাচ ও তেজপাতা দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন।
এ বার কড়াইতে সামান্য ঘি গরম করে কাজুবাদাম ও কিশমিশ ভেজে তুলে রাখুন। ঘন দুধের মধ্যে ভাজা বাদাম, কিশমিশ এবং আগে ভিজিয়ে রাখা ইসবগুল মিশিয়ে দিন। মিশ্রণটি ক্ষীরের মতো ঘন হয়ে এলে স্বাদমতো স্টিভিয়া বা অন্য বিকল্প মিষ্টি দিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন।
ইসবগুলের চকোলেট পুডিং
চকোলেটপ্রেমীদের জন্য ইসবগুল দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে সহজ একটি পুডিং।
কী কী লাগবে?
২০০ মিলিলিটার দুধ
১ টেবিলচামচ ইসবগুল
১ টেবিলচামচ কোকো পাউডার
স্বাদমতো স্টিভিয়া বা বিকল্প মিষ্টি
গলানো ডার্ক চকোলেট
চকোলেট চিপ্স
কীভাবে বানাবেন?
একটি পাত্রে দুধ, ইসবগুল, কোকো পাউডার এবং স্বাদমতো মিষ্টি একসঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে নিন। আধ ঘণ্টার জন্য ঢেকে রেখে দিন।
এর পরে মিশ্রণটি একটি ছোট গ্লাসে ঢেলে উপরে গলানো ডার্ক চকোলেট ও চকোলেট চিপ্স ছড়িয়ে দিন। ফ্রিজে রেখে দিন প্রায় দু’ঘণ্টা। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে ঘন ও মজাদার চকোলেট পুডিং।
ইসবগুলের রায়তা
ভারী খাবারের সঙ্গে পরিবেশনের জন্য ইসবগুলের রায়তাও হতে পারে ভিন্ন স্বাদের একটি পদ।
কী কী লাগবে?
১ বাটি টকদই
১ টেবিলচামচ ইসবগুল
শসাকুচি
পেঁয়াজকুচি
লঙ্কাকুচি
বিটনুন
গোলমরিচের গুঁড়ো
ভাজা জিরের গুঁড়ো
কীভাবে বানাবেন?
প্রথমে টকদই ভাল করে ফেটিয়ে নিন। তার মধ্যে ইসবগুল মিশিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। এর পরে শসাকুচি, পেঁয়াজকুচি, লঙ্কাকুচি, বিটনুন, গোলমরিচ ও ভাজা জিরের গুঁড়ো মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু ইসবগুলের রায়তা।
মনে রাখবেন
ইসবগুলে ফাইবার বেশি থাকলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে পর্যাপ্ত জল না খেলে অস্বস্তি হতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় নতুন কোনও উপাদান নিয়মিত যোগ করার আগে নিজের শারীরিক প্রয়োজন বুঝে পরিমাণ ঠিক করাই ভাল।
Recipe: মেদ ঝরাতে বাধ সাধছে বিরিয়ানি প্রেম? বাড়িতেই বানান ডায়েট-ফ্রেন্ডলি বিরিয়ানি
জলে গুলে খাওয়ার একঘেয়েমি দূর করে ইসবগুলকে এ ভাবেই নানা সুস্বাদু পদে ব্যবহার করতে পারেন। পায়েস থেকে চকোলেট পুডিং কিংবা রায়তা—স্বাদের সঙ্গে ফাইবার যোগ করার সহজ উপায় হতে পারে এই রেসিপিগুলি।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.