ডিভিসির জল ছাড়ায় বন্যার আশঙ্কা, হুগলি-হাওড়ায় তৎপর প্রশাসন! হাসপাতালে ভিড় প্রসূতিদের, চিন্তায় চাষিরা

ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায় হুগলি ও হাওড়ার গ্রামীণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্বারকেশ্বর, দামোদর, মুন্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ-সহ একাধিক নদীর জল ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। নদীগুলিতে জলের চাপ আরও বাড়লে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে নিচু এলাকা—এমন আশঙ্কা করছে প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই জেলাতেই শুরু হয়েছে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজের প্রস্তুতি।

সেচ দপ্তর সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। নদীর জল উপচে গ্রামের ভিতরে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন ধান ও আনাজ চাষিরা। বিশেষ করে যাঁদের জমির ফসল কাটার সময় প্রায় এসে গিয়েছে, তাঁদের উদ্বেগ আরও বেশি। উদয়নারায়ণপুরের হরিহরপুরের বাসিন্দা গণেশ শাসমল জানান, প্রায় ৩৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সাড়ে চার বিঘে জমিতে ধান চাষ করেছিলেন তিনি। ভালো ফলনও হয়েছিল। আর কয়েকদিনের মধ্যেই মাঠ থেকে ধান তুলে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই বন্যা হলে গোটা ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।

বন্যার আশঙ্কায় হাসপাতালে প্রসূতিদের ভিড়
সম্ভাব্য বন্যার কথা মাথায় রেখে উদয়নারায়ণপুরে আগেভাগেই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বন্যা হতে পারে ধরে নিয়ে বহু সন্তানসম্ভবা মহিলা উদয়নারায়ণপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র মজুত রাখা হয়েছে। এমনকি সাপের উপদ্রবের আশঙ্কায় অ্যান্টিভেনামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই উদয়নারায়ণপুরের বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে প্রায় ২০০ জনকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দামোদরের বাঁধের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন হাওড়ার জেলাশাসক দীপাপ্রিয়া পি, হাওড়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা এবং সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। প্রশাসনের তরফে পুলিশ ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট দলের সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন,
Nepal Flash Flood: নবম দিনে আশার আলো, ত্রিশূলীর টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার ২

হুগলিতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি
হুগলির পরিস্থিতি মোকাবিলাতেও জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। জেলার বিভিন্ন নদীর ফেরিঘাটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নদীপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদিও অনেক জায়গায় যাত্রীরা সেই নিয়ম মানছেন না বলে অভিযোগ। উদ্ধারকাজের জন্য পর্যাপ্ত নৌকা ও স্পিডবোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নদী ও খাল সংলগ্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে নদীপথে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ। তিনি জানান, ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানোর ফলে নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিচু এলাকার মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফেরিঘাট ও নদীপথে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং নৌকোয় যাতায়াতের সময় প্রত্যেককে লাইফ জ্যাকেট পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন,
চাল-গমের পাশাপাশি মিলবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, রেশন দোকান নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ল মাটির দোতলা বাড়ি
এর মধ্যেই বৃষ্টির জেরে গোঘাটে ভেঙে পড়েছে একটি মাটির দোতলা বাড়ি। বৃহস্পতিবার ভোরে সাওড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্রজমোহনপুরের চক-মোমরেজ গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। বাড়ি ভেঙে পড়ার আগে বিপদ বুঝে পরিবারের সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে আসায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে বাড়ির ভিতরে থাকা আসবাবপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায়।

সব মিলিয়ে ডিভিসির জল ছাড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় হুগলি ও হাওড়ার গ্রামীণ এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির দিকে প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছে প্রশাসন। সম্ভাব্য প্লাবন হলে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক