হুগলি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ধসে গেল পাথর ও বোল্ডার দিয়ে বাঁধানো নদীর পাড়। কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে সাজানো হয়েছিল হাওড়ার গড়চুমুকের বাসুদেবপুর এলাকায় নদীর পাড়। সেই বাঁধানো পাড়ই আচমকা ধসে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে পাশের পার্কটিও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রশাসনের তরফে পার্কের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পার্কের ভিতরে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নদীর পাড় দিয়ে সাধারণ মানুষ হেঁটে চলাচল করতে পারলেও নিরাপত্তার কারণে বাইক, অটো ও টোটো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, উলুবেড়িয়া থেকে গড়চুমুক ৫৮ গেটের দিকে যাওয়ার মুখে দামোদর ও হুগলি নদীর সংযোগস্থলের কাছে পূর্ব বাসুদেবপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। হুগলি নদীর পাশেই রয়েছে একটি বড় পার্ক। স্থানীয়দের দাবি, এ দিন নদীতে প্রবল জোয়ারের সময় সকাল ১০টা নাগাদ আচমকাই পাথর ও বোল্ডার দিয়ে বাঁধানো পাড়ে ধস নামতে শুরু করে। ধসের জেরে পার্কের লোহার বেড়ির একাংশও ভেঙে নদীগর্ভে চলে যেতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীতে জাহাজ চলাচলের সময় ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ছে। পার্কের ভিতরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি বিপজ্জনক অবস্থায় থাকায় বিডিওর নির্দেশে সেটি সরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন গড়চুমুক ফাঁড়ির পুলিশ আধিকারিক, শ্যামপুর-১ ব্লকের বিডিও মনোজ পাহাড়ী এবং সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। পরে সেখানে যান বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবাশিস সামন্তও। ধসের জায়গার বিপরীতে ৫৮ গেট-বুভুলের মধ্যে ফেরি চলাচল করে। ভাঙনের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ফেরির লিজ় হোল্ডারকে সতর্কতার সঙ্গে লঞ্চ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গড়চুমুকের দিকে হুগলি নদীর গভীরতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তার উপর হুগলি ও দামোদর নদীর সংযোগস্থল হওয়ায় ওই এলাকায় নদীর গভীরতা আরও বেশি। এর ফলেই নদীর স্রোতের প্রভাবে ওই অংশে বিপজ্জনক ভাবে পাড় বসে যাচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। ইতিমধ্যেই ভাঙন রোধে প্রাথমিক মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন,
Nepal Flash Flood: নবম দিনে আশার আলো, ত্রিশূলীর টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার ২
উল্লেখ্য, যে জায়গায় বর্তমানে ধস নেমেছে, তার প্রায় ৫০০ মিটার দূরেই ২০২২ সালে একবার নদীর পাড়ে ধস নেমেছিল। সেই অংশের মেরামতির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এদিকে, ভাঙনস্থলের পাশেই গণেশ গিরির চায়ের দোকান এবং বাড়ি। সকালে বাজারে যাওয়ার পর নদীর পাড় বসে যাওয়ার খবর পান তিনি। তাঁর দাবি, ভাঙনের জেরে বিধান মণ্ডলের চায়ের দোকান ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে চলে গিয়েছে।
এলাকার বাসিন্দা এবং বেলাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য শেখ মুস্তাকিন রহমান, বিজেপি নেতা আশিস নস্কর-সহ স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.