Vastu: শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর পর এ বার ঘরে ঘরে সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনার পালা। প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী। হিন্দু ধর্মে এই দিনটি অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই তিথিতেই সিদ্ধিদাতা গণেশের আবির্ভাব হয়েছিল।
শাস্ত্রমতে, ভগবান গণেশ হলেন সিদ্ধিদাতা ও বুদ্ধিদাতা। যে কোনও শুভকাজ বা পুজোর শুরুতেই গণেশের পুজো করার রীতি রয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, গণপতির আশীর্বাদে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং কাজে সাফল্য আসে।
গণেশ চতুর্থী কেন পালন করা হয়?
দেবাদিদেব মহাদেব এবং দেবী গৌরীর পুত্র শ্রীগণেশ। তাঁকে সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি, বুদ্ধি ও সাফল্যের দেবতা হিসেবে পুজো করা হয়।
পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, একবার দেবী গৌরী তাঁর পুত্র গণেশকে আশীর্বাদ করার জন্য দেবতাদের আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে শনিদেবও উপস্থিত হন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও শনিদেব গণেশকে দর্শন করেন। তাঁর দৃষ্টির প্রভাবে গণেশের মস্তক ভস্মীভূত হয় বলে পুরাণে বর্ণিত রয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভগবান বিষ্ণু হস্তীমস্তক এনে গণেশকে পুনর্জীবন দেন। এরপর দেবতাদের আশীর্বাদে গণেশ সিদ্ধিদাতা হিসেবে মর্যাদা লাভ করেন। সেই থেকেই যে কোনও শুভকাজের আগে গণেশ পুজোর প্রচলন হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
গণেশ চতুর্থী ২০২৬ কবে?
স্কন্দপুরাণ অনুসারে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথি হল সিদ্ধিদাতা গণেশের জন্মতিথি। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে গণেশ মর্ত্যে আবির্ভূত হয়ে ভক্তদের আশীর্বাদ করেন।
২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার পালিত হবে। তবে পঞ্জিকা ভেদে চতুর্থী তিথি শুরু ও শেষ হওয়ার সময়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে
চতুর্থী তিথি শুরু:
বাংলা তারিখ — ২৮ ভাদ্র, সোমবার
ইংরেজি তারিখ — ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার
সময় — সকাল ৭টা ৮ মিনিট
চতুর্থী তিথি শেষ:
বাংলা তারিখ — ২৯ ভাদ্র, মঙ্গলবার
ইংরেজি তারিখ — ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার
সময় — সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট
এই সময় অনুযায়ী ১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থী ও শ্রীশ্রী গণেশপূজা করা হবে।
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে
চতুর্থী তিথি শুরু:
বাংলা তারিখ — ২৭ ভাদ্র, সোমবার
ইংরেজি তারিখ — ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার
সময় — সকাল ৭টা ২৭ মিনিট ১১ সেকেন্ড
চতুর্থী তিথি শেষ:
বাংলা তারিখ — ২৮ ভাদ্র, মঙ্গলবার
ইংরেজি তারিখ — ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার
সময় — সকাল ৮টা ৩০ মিনিট ৩২ সেকেন্ড
অর্থাৎ, দুই পঞ্জিকার হিসাবেই ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার গণেশ চতুর্থী পালিত হবে।
গণেশ পুজোর মাহাত্ম্য
গণেশকে সিদ্ধিদাতা বলা হয়, কারণ তিনি ভক্তদের জীবনে সাফল্য ও শুভ ফল প্রদান করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। পাশাপাশি তিনি বুদ্ধি ও জ্ঞানের দেবতা হিসেবেও পূজিত।
হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে কোনও শুভকাজ শুরু করার আগে প্রথমে গণেশের পুজো করার প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, গণপতির আরাধনা করলে কাজে বাধা কমে এবং শুভ শক্তির আগমন ঘটে।
তাই শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর পর এ বার ভক্তদের অপেক্ষা গণেশ চতুর্থীর। ১৪ সেপ্টেম্বর ঘরে ঘরে গণপতিকে প্রতিষ্ঠা করে ভক্তিভরে পুজো করবেন বহু মানুষ।
Vastu: ব্যস্ততায় হনুমান চালিশা পাঠের সময় নেই? জপ করুন বজরংবলীর এই ১২ নাম
তথ্যসূত্র: বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা ও গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে প্রদত্ত তিথির সময়।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.